
কাঁথি: কাঁথি পুরসভায় যেন এক মিউজিক্যাল চেয়ার চলছে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, পুরপ্রধান সুবল মান্নার বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘিরে যেভাবে এক চূড়ান্ত নাটকীয়তা তৈরি হচ্ছে, তাতে এই কথাই বলছেন বিরোধী দলের লোকেরা। শুরুটা হয়েছিল কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীকে প্রণাম করার মধ্য দিয়ে। সেই থেকেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সুবল মান্নার। অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরেও টান টান নাটক। এবার কাঁথির পুরপ্রধান সুবল মান্নার বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের অনাস্থার প্রেক্ষিতে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের কোর্টে গেল অনাস্থা বৈঠক ডাকার দায়ভার।
দলীয় নেতৃত্বের হুইপ না মানা নিয়ে সুবলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে দলেরই কাউন্সিলরদের। সেই নিয়ে গত ২ জানুয়ারি ১৬ জন কাউন্সিলর সুবলের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। কিন্তু তখন ৫ তারিখ আবার সুবল নিজের অফিস প্যাডে জানান, কেন অনাস্থা আনা হচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ জানাতে। সূত্রের খবর, কোনও কাউন্সিলরই জবাব দেননি। এদিকে পুর আইন অনুযায়ী, অনাস্থা আসলে ১৫ দিনের মধ্যে বিশেষ বৈঠক ডাকতে হয়। অন্যথায়, নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি চলে যায় পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের কোর্টে। সেই মতো ভাইস চেয়ারম্যান সাত দিনের মধ্যে বৈঠক ডাকেন।
যদিও এই অনাস্থার বিষয়ে চেয়ারম্যান সুবল মান্নাকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি,আমি কিছু বলব না।’ অন্যদিকে কাঁথি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরিও এ বিষয় নিয়ে কিছু বলতে রাজি নন। আর এই ডামাডোলের মধ্যে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিজেপি। কাঁথি পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সুশীল দাস বলেন, ‘কাঁথির মানুষ ভোট দিয়েছিল এই মিউজিক্যাল চেয়ার দেখার জন্য! কাঁথি মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। মানুষ হয়রান হচ্ছে। চূড়ান্ত অব্যবস্থা চলছে। পুরবাসী দেখুক এই ভোট লুঠ করা তৃণমূলের কীর্তি।’