
পুরুলিয়া: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এবার আশার আলো দেখছে পুরুলিয়ার ছররা বিমানবন্দর। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্র সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় এই বিমানবন্দরটিকে যুক্ত করে এর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪২ সালে সামরিক প্রয়োজনে ছররা বিমানবন্দরটি তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এটি সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হলেও তারপর থেকেই এটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাম আমল থেকেই এই বিমানবন্দরটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ এগোয়নি। এমনকি বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে বিগত ১৫ বছরে একাধিকবার এই নিয়ে ঘোষণা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পালাবদলের পর সাম্প্রতিক বাজেটেই ছররা বিমানবন্দর চালুর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং এর জন্য ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
বরাদ্দ অর্থ পাওয়ার পরেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি জেলাশাসক এবং এলাকার সাংসদ নিজে ওই পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও এটি পরিদর্শনে আসবেন বলে জানা গিয়েছে। বিমানবন্দরটিকে আধুনিক করে গড়ে তুলতে এবং ছোট ও মাঝারি বিমান চলাচলের উপযোগী করতে রানওয়ে-সহ অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে কিছু নতুন জমিও অধিগ্রহণ করা হতে পারে, যে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট দফতর।
এই বিমানবন্দরটি চালু হলে পুরুলিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রঘুনাথপুর শিল্প পার্ক এবং ঝাড়খণ্ডের সীমানায় অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পতালুকের ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়-সহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জেরে এই জেলায় নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিমানবন্দর চালুর এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে ছররা বিমানবন্দর পুরুলিয়াকে দেশের বিমান মানচিত্রে স্থান করে দিতে চলেছে, যা এই পিছিয়ে থাকা জেলার উন্নয়নে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।