Purulia School: পড়ুয়া ‘নেই’, তা-ও মিড ডে মিল, প্রশ্ন শুনেই ‘প্রকৃতির ডাকে’ দৌড়লেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

Purulia school with zero students: যাদের জন্য বিদ্যালয়, তারাই কেউ আসে না স্কুলে। বর্ষাকালে গোটা বিদ্যালয়ের চত্বর জঙ্গলে ভর্তি। শুধু ভূতুড়ে বাড়ির মতো সেই বিদ্যালয়ের ভবন। সেখানেই তিনজন শিক্ষক বসে থাকেন। সেই বিদ্যালয়ে তিন তিনটে বাথরুম রয়েছে। নলকূপ রয়েছে ২টি। রয়েছে ৪টা ক্লাসরুম, একটা এক্সট্রা ক্লাস রুম। যদিও ১টি ক্লাসরুম যেখানে শিক্ষকরা বসেন, সেটা বাদ দিয়ে কোনও ক্লাসরুম খোলাই হয় না।

Purulia School: পড়ুয়া নেই, তা-ও মিড ডে মিল, প্রশ্ন শুনেই প্রকৃতির ডাকে দৌড়লেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
কী বললেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Aug 26, 2026 | 4:38 PM

পুরুলিয়া: স্কুল আছে। রান্নাঘর আছে জঙ্গলের মধ্যে। স্কুলের বারান্দায় নতুন উনুন বানানো আছে। কাঁচা সে উনুন দেখে বোঝাই যাচ্ছে কখনও সেখানে মিড ডে মিলের হাঁড়ি চড়েনি। কারণ স্কুলে কোনও পড়ুয়া আসে না। এবার নাটকের আসল দৃশ্য। ওই মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের (পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি) টিচার ইনচার্জকে প্রশ্ন করা মাত্রই এক অদ্ভুত দৃশ্য। ক্যামেরা দেখেই তিনি স্কুল থেকে ছুট লাগালেন সামনের দিকে। কয়েক পা যেতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন। আবার উঠলেন। উঠে দাঁড়িয়ে ছুটতে গিয়ে আবার হোঁচট খেলেন। পড়ে যেতে যেতে দাঁড়াতে গিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো অবস্থা। উঠে দাঁড়িয়ে রীতিমতো ছুটছেন স্কুলের বাইরে। সারা রাস্তাঘাট ঘুরে এসে ফের ছুটতে ছুটতে তিনি স্কুলে ফিরলেন। তারপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তিনি ছুটলেন। কিন্তু প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়েই তিনি ফিরেও এলেন। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা স্ব-বিরোধী কথা বলে গেলেন। ঘটনাটি পুরুলিয়া এক নম্বর ব্লকের চাকলতোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের মাতকুমডি গ্রামের।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মাতকুমডি এমএসকে (মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র)। বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনে সেই বিদ্যালয়ের নামটুকুও লেখা নেই। এলাকার মানুষজন তাদের পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাদের শিক্ষার স্বার্থে প্রায় এক একর জমি দান করেছিলেন। সেই দান করা জমির উপরে গড়ে উঠেছিল বিদ্যালয়। প্রথম দিকে প্রায় ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী ছিল। এখন উপস্থিতির সংখ্যা শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি, এক সপ্তাহে একজন পড়ুয়াও স্কুলে আসেনি। স্কুলে রয়েছেন মোট তিন জন শিক্ষক। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। তারপর ফিরেও যান।

যাদের জন্য বিদ্যালয়, তারাই কেউ আসে না স্কুলে। বর্ষাকালে গোটা বিদ্যালয়ের চত্বর জঙ্গলে ভর্তি। শুধু ভূতুড়ে বাড়ির মতো সেই বিদ্যালয়ের ভবন। সেখানেই তিনজন শিক্ষক বসে থাকেন। সেই বিদ্যালয়ে তিন তিনটে বাথরুম রয়েছে। নলকূপ রয়েছে ২টি। রয়েছে ৪টা ক্লাসরুম, একটা এক্সট্রা ক্লাস রুম। যদিও ১টি ক্লাসরুম যেখানে শিক্ষকরা বসেন, সেটা বাদ দিয়ে কোনও ক্লাসরুম খোলাই হয় না। এলাকার এক পড়ুয়া বলে, “আমাদের গ্রামের এই স্কুলে ভালো পড়াশোনা হয় না। তাই, আমরা ৫ কিমি দূরে স্কুলে গিয়ে ভর্তি হয়েছি।”

দু-তিন বছর আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। কিছুই নেই। কিন্তু শিক্ষকরা তাও স্কুলে (বলা চলে আড্ডা দিতে ) আসেন। তাঁরা মাসে মাসে বেতন পান। এমতাবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলের মিড ডে মিলের দাখিল করেন। অভিযোগ, ভুয়ো মিড ডে মিল দাখিল করেছেন। সেই খবর গ্রামের মানুষের কানে আসতেই তাঁরা পুরুলিয়া -১নম্বর ব্লকের বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করেন।

যদিও স্কুলের টিচার ইনচার্জ পঙ্কজ কুমার রেওয়ানির দাবি, মিড ডে মিলের রান্না হয়। কিন্তু কোন দল মিড ডে মিল রান্না করে, তিনি সেটাও বলতে পারেনি। তাঁর দাবি, রান্না হয় গ্যাসে। সেই সিলিন্ডার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। সবকিছুই প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us