
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) হুঁশিয়ারির পর বারুইপুরে শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। বুধবার রাতভর তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। তারপরই আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে গণপিটুনি, পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই দিনে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারির (Baruipur Case Arrest) সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০।
১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বারুইপুর। পথ অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। একইসঙ্গে সরকারি সম্পত্তি ভাঙার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। দিন কয়েক আগেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি ইনোসেন্ট। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা এলাকায় অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই অ্যাকশন মোডে পুলিশ।
মঙ্গলবারই বারুইপুর এলাকায় ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ভাঙচুরের ঘটনায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমে পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হন ১৮ জন। বুধবার রাতভর এসটিএফ, SOG, জেলা পুলিশের অভিযানে নতুন করে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনের। ঘটনাস্থলে পুলিশের আউটপোস্ট বসছে। তাতে সিসিটিভি কভারেজও থাকছে।
প্রসঙ্গত, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এনকাউন্টারে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুননির্মাণের জন্য ওই অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেইসময় অভিযুক্ত কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মীর পকেট থেকে বন্দুক বার করে পালানোর চেষ্টা করে। এমনই দাবি করা হয়েছে পুলিশের তরফে। পুলিশ বাধা দিলে এক রাউন্ড গুলিও চালায় সে। তারপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। ওই এনকাউন্টারের ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।