
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নদী ভাঙন অব্যাহত। তার মধ্যে এবার যোগ হল সমুদ্রভাঙনও। আর তার জেরেই কার্যত বিলুপ্তির পথে গঙ্গাসাগরের ঐতিহ্যবাহী শালকাঠের কটেজ। ২০১১ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঙ্গাসাগর মেলা পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য ইকো -ট্যুরিজম মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে এই বাংলোটি তৈরি হয়। প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল সেই সময়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত এই কটেজটি স্থানীয় ও পুণ্যার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হলেও, বর্তমান ভিটেমাটি ধসে পড়ে তা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে।
কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি এভাবে নষ্ট হতে দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সৈকত ও ঐতিহ্য রক্ষায় অবিলম্বে স্থায়ী সমুদ্রবাঁধের দাবি তুলেছেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজেশ জানা অভিযোগ করে বলেন, “তৃণমূল সরকারের উদাসীনতা ও কাটমানির রাজনীতির কারণেই আজ এই কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হল। বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় ভাঙন রোধে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ না করে শুধু লোকদেখানো কাজ হয়েছে।” অন্যদিকে, ভাঙনের কথা স্বীকার করে সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লাগাতার ভাঙনের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে, দ্রুত স্থায়ী সমুদ্রবাঁধ তৈরি করে গঙ্গাসাগরের বাকি ঐতিহ্য রক্ষা করাই এখন পর্যটক ও এলাকাবাসীর মূল দাবি।