
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এনকাউন্টার। বারুইপুরের ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু। নাবালিকাকে টাকার বিনিময়ে মূল অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই। সিসিটিভি ফুটেজেও নির্যাতিতার সঙ্গে এই ব্যক্তিকেই দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের অস্ত্র নিয়ে গুলি করার চেষ্টা করতেই পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।
নারী নির্যাতনে অভিযুক্তরা যাতে কোনওভাবেই ছাড় না পায়, কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি পায়, এমন দাবি দীর্ঘদিনের। একসময় হায়দরাবাদের ধর্ষণকাণ্ডে ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছিল। আজ বাংলায় যেন তারই পুনরাবৃত্তি। আর এই গোটা পর্বের ‘নায়ক’ বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার সাব-ইন্সপেক্টর অর্ঘ্য মণ্ডল।
ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে?
মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বারুইপুর কাণ্ডে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’-এর অন্যতম সদস্য রনি সরকারের সার্ভিস রিভলভারটি আচমকাই কেড়ে নেয় অভিযুক্ত। অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের ঘেরাটোপ থেকে অন্ধকারের মধ্যে ঝোপঝাড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে অভিযুক্ত। এমনই দাবি পুলিশের। তখনই পুলিশকর্তা অর্ঘ্য মণ্ডল সহকর্মীদের প্রাণ বাঁচাতে ও আত্মরক্ষার্থে নিজের সার্ভিস রিভলভার দিয়ে গুলি চালান বলে সূত্রের খবর।
কে এই অর্ঘ্য মণ্ডল?
২০১৪-র ব্যাচের একজন পুলিশ অফিসার এই অর্ঘ্য মণ্ডল। তিনি এর আগে জয়নগর, কুলতলি ও সোনারপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। বারুইপুরের এসওজি (SOG) ইনচার্জ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
অর্ঘ্য মণ্ডল জয়নগর থানা থেকে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এরপর তাঁর পোস্টিং হয় সোনারপুরে। সেখানকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় নাকি কুখ্যাত তোলাবাজদের ঘাম ছুটিয়েছিলেন তিনি। এরপরই পোস্টিং হয় কুলতলিতে। পুলিশের খাতায়, যে এলাকা কি না দুষ্কৃতীদের সাম্রাজ্য, সেখানেও নিজের দায়িত্ব-কর্তব্যে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে তিনি বারুইপুর থানায় কর্মরত।
এই পদক্ষেপ কতটা আইনসিদ্ধ?
বাংলায় এই এনকাউন্টার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চলছে তরজাও। ইতিমধ্যেই বাম-তৃণমূলের তরফে এই এনকাউন্টারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই নিয়ে আইনজীবীরা কী বলছেন? বিশিষ্ট আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা বলেন, “এক্ষেত্রে দু’ধরনের যুক্তি রয়েছে, আইনের যুক্তি আর সামাজিক যুক্তি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে মনে হয় ইমিডিয়েট অ্যাকশন দরকার। বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত না হলে হতাশা তৈরি হয়।”
তিনি বলেন, “আদালতের গাইডলাইন অনুযায়ী এনকাউন্টার তখনই হবে, যদি দেখা যায় যিনি কেউ কোনওভাবে মৃত্যু ভয় পেয়েছেন বলেই এনকাউন্টার করেছেন। অভিযুক্ত হয়ত তাঁকেই মারার চেষ্টা করছেন, তখন মারতে বাধ্য হলেন। সেকশন ৯৬ IPC-তে রাইট টু সেল্ফ ডিফেন্স (আত্মরক্ষার অধিকার) কখনই অফেন্স (অপরাধ) নয়। যদি সেই পরিস্থিতিতেই এই এনকাউন্টার হয়ে থাকে, তাহলে এটি আইনি স্বীকৃতি পায়। আইনে কোনও বাধা নেই।” তবে এরপরও আইনপ্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েও যেতে হবে বলে জানা গিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নজরদারিতে তদন্ত হবে। সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তাকে একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তাতে যদি প্রমাণ হয়, আইনিভাবেই তিনি বাধ্য হয়েছিলেন, তাহলে অবশ্যই এটা ‘লিগ্যাল এনকাউন্টার’ হিসাবেই পরিগণিত হবে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।