
বারুইপুর: বারুইপুরে (Baruipur Blast) তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভেঙে পড়ে ওই তৃণমূল নেতার বাড়ির (Baruipur TMC Leader House Blast) একাংশ। উড়ে গিয়েছে ঘরের চাল, দরজা-জানলা। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর থানার পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড। বিজেপির (BJP) অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমা মজুত রাখা ছিল, তার জেরেই বিস্ফোরণ ঘটে।
বারুইপুরের ওই তৃণমূল নেতার নাম দ্বিজেন মণ্ডল। বারুইপুর পূর্বের উত্তরভাগ লাল পোলের কাছে তাঁর দোতলা বাড়ি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই এলাকার যুব তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গতকাল গভীর রাতেই হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। বিস্ফোরণের জেরে বাড়ির একাংশ বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দেওয়াল ভেঙে পড়ে, ঘরের চাল, দরজা-জানলা উড়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে সামনের বাড়িতে গিয়ে উড়ে পড়ে শাটার,টিন। যদিও এই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
বিজেপির অভিযোগ, প্রচুর বোমা মজুত ছিল এই বাড়িতে। ভোটের ফলের পর থেকেই এলাকা ছাড়া তৃণমূল নেতা। বারুইপুর পূর্ব ২ নম্বর বিজেপির মণ্ডল প্রেসিডেন্ট দীপঙ্কর কর্মকার বলেন, “বিগত দিনে সন্ত্রাসের যে কর্মকাণ্ড হতো এখান থেকেই তাঁরা প্রস্তুতি নিত। দ্বিজেন মণ্ডলের নেতৃত্বেই সবটা হতো। সঙ্গে কয়েকজন শাগরেদ ছিলেন। এখানে যে বোমা মজুত রয়েছে, এই বিষয়ে আমাদের কার্যতকর্তারা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন। সেভাবে তল্লাশি চালানো হয়নি। তাই আজ এইভাবে বিস্ফোরণ হল। এমন তীব্রতা ছিল ২০০ মিটার দূরে গিয়ে শাটার অন্য বাড়িতে পড়ে গ্রিল বেঁকে যায়। দেওয়ালের অংশগুলি ভেঙে ১০০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। দ্বিজেন মণ্ডলের উপযুক্ত শাস্তি চাই। কোথা থেকে এল এত বোমা? কী কী ছিল বাড়িতে? এই নিয়ে এনআইএ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, গতকাল রাত দু’টো নাগাদ বিকট আওয়াজ শোনা যায়। বেরিয়ে দেখি দাউ দাউ করে জ্বলছে বাড়ি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতেই পুলিশ আসে। তল্লাশি চালানো হয়। এরপর আজ সকাল থেকেই পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড রয়েছে। এই বাড়িতে তৃণমূল নেতা বা তাঁর পরিবার এখন থাকেন না। ভোটের রেজাল্টের পরই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এখানে প্রচুর বোমা মজুত রাখা ছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীরও। তদন্ত চাইছেন তাঁরা।
এই মুহূর্তে ঘটনাস্থল ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে বারুইপুর থানার পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড। কোথাও কোনও বোমা রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।