
ফলতা: ফলতার ফলাফল দেখে অনেকেই বলছেন, ভেঙে পড়েছে ‘ডায়মন্ড-হারবার মডেল’। পুনর্নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। প্রায় এক দশক ধরে দাপট চালানো জাহাঙ্গীর খানের জুটেছে ‘লাস্ট বয়ে’র তকমা। সেই ফলাফলে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা সিপিএম। ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছে বামেরা। তবে অনেকেই জানেন না, ওই সিপিএম প্রার্থী গত ৭ বছর ধরে নিজের বাড়িতেই ফিরতে পারেননি।
জাহাঙ্গীর-বাহিনীর অত্যাচারে গত ৭ বছর ধরে বাড়ি-ছাড়া ফলতার সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুর্মী। অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে তিনি বাড়ি ছাড়া। ফলতার ফতেপুরের মন্ডলপাড়ার বাসিন্দা শম্ভু কুর্মী বর্তমানে কিছুটা দূরে আমতলায় একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। সিপিএমের পক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরও আমতলা থেকেই প্রত্যেকদিন ফতেপুরে যাতায়াত করতেন। ফতেপুরের দলীয় কার্যালয়ে বসে প্রচারের জন্য দলীয় কর্মসূচি সেরেছেন।
জানা গিয়েছে, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী ফুয়াদ হালিমের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন শম্ভু। তিনি তখন দলের ফলতার এরিয়া কমিটির সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। ফলতায় সিপিএমের সংগঠন ছিল তাঁরই হাতে। অভিযোগ, সিপিএমের প্রচার আটকাতে জাহাঙ্গীর এবং তাঁর দলবল হামলা চালায় তৎকালীন সিপিএম প্রার্থী ফুয়াদ হালিম এবং শম্ভু কুর্মী সহ সিপিএমের কর্মী সমর্থকদের উপর। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁদের। গুরুতর জখম হয়েছিলেন শম্ভু কুর্মী। তারপরও তিনি থেমে থাকেননি।
এরপর জাহাঙ্গীর-বাহিনী লাগাতার তাঁর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালানোর পাশাপাশি পরিবারের লোকজনদের হুমকি দিতে থাকে বলেও অভিযোগ। ফলে প্রাণ বাঁচাতে দলের সিদ্ধান্তে আমতলায় ভাড়াবাড়িতে আশ্রয় নেন শম্ভু। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ফলতার নির্বাচনে শম্ভু কুর্মীর নেতৃত্বে সিপিএম উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। সংগঠনের হল ধরতে এবার বাড়ি ফিরতে চান শম্ভু। নতুন সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, ফলতায় যেন আর কোনও ‘জাহাঙ্গীর খান’ তৈরি না হয়।