
গঙ্গাসাগর: ‘৩৬ বছর বয়সে যা সম্ভব, ৭০ বছর বয়সে তা সম্ভব নয়’. তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্য করার ২৪ ঘণ্টা পরই সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বললেন, “যোগ্যদের ৬০ বছরে বিদায় দিই না।’ শাসক দলে মধ্যে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে বারবার আঙুল তুলছে বিরোধীরা। বয়সের বিচারে শাসক দল দ্বিধাবিভক্ত? এই নিয়ে চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। তারই মধ্যেই মমতার কথায় বাড়ল জল্পনা। তিনি কি এই মন্তব্যে আদতে প্রবীণদের পক্ষে সওয়াল করলেন? সোমবার মেলার প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে গঙ্গাসাগরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে হেলিপ্যাডে নেমে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেছেন মমতা।
এদিন মমতা বলেন, “যারা যোগ্য লোক, তাদের কিন্তু আমরা ৬০ বছরে বিদায় দিই না। তাদের কাজকর্ম, অভিজ্ঞতা পুরো কাজে লাগাই।” কার বা কাদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করলেন, তা স্পষ্ট নয়। এদিকে, গতকাল রবিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের একটি সভায় দাঁড়িয়ে কার্যত, সেই নবীনের পক্ষেই সওয়াল করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যের পিছনে যুক্তিও দিয়েছেন।
রবিবার অভিষেক বলেন, “আমি সব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াব। এতে কোনও দ্বিমত নেই।” সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি বলেছি বয়স হলে কর্মক্ষমতা কমে। আমার ৩৬ বছরে যা ক্ষমতা, ৫৬-তে একটু হলেও তো ক্ষমতা কমবে। আমি নবজোয়ারে যেভাবে ঘুরেছি, ৭০ বছর বয়স হলে তা পারা সম্ভব নয়। এটা তো ধ্রুব সত্য। এটা অস্বীকার করার কী আছে?”
মমতা কোন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বললেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্প্রতি তিনি অবসরপ্রাপ্ত অনেক আমলাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁদের কথাও বলে থাকতে পারেন মমতা। তবে বিরোধীরা মনে করছেন, দ্বন্দ্ব একটা চলছেই।
বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর দাবি, ৩৬ ও ৭০ বছরের পার্থক্য আদতে মমতাকেই বোঝাতে চেয়েছেন অভিষেক। সুজন বলেন, অভিষেক বোঝাতে চেয়েছেন। আমার ৩৬। আমি যা পারি, আপনি ৭০-এর তা পারবেন না। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষের দাবি, পদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে অভিষেকের। এই ধরনের মন্তব্য আদতে তারই বহিঃপ্রকাশ।