
সোনারপুর: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর বাড়িতে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। আসার পথে চরম নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। জনরোষে পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁকে লক্ষ্য করে চড়-কিল-ঘুষি মারা হয়েছে। কাদা, ডিম ছোড়া হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। ওই কর্মীর বাড়ির বাইরে ভিড় সাধারণ মানুষের। অভিষেক রয়েছেন মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির ভিতরে। তাঁকে উদ্ধারে হাজির কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু কিছুতেই সরানো যাচ্ছে না সাধারণ মানুষকে।
কী ঘটছে অভিষেকের সঙ্গে?
এক বিক্ষুব্ধ জনতা বলেন, “চোর এসেছে একটা…চোর…ওকে নিয়ে চলে যান।” অপরদিকে, এলাকার মহিলারা মানব বন্ধন করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক মহিলা বলেন, “চাকরি চলে গেছে..তিলোত্তমার বিচার হয়নি…এর হিসাব আমরা নেব। আমরা আজ পেটাব। আমরা হাতে পেলে আজ পেটাবই পেটাব। মারের বদলে মার।” সাধারণ মানুষ চিৎকার করে বলতে শুরু করেছেন, প্রয়োজনে তাঁরা বিজেপিকে বুঝে নেবেন।
এ দিকে, মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির ভিতর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। এক মহিলা বলেন, “ও চোর…সবাই চোর। আমি বঞ্চিত আমি চাকরি প্রার্থী।”
ঘটনাক্রম পরপর
১) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় কামালগাজি যখন সিগন্যালে দাঁড়ায় সেই সময় কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা ছুটে যান। তাঁর গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে প্রথমে দেখানো হয় কালো পতাকা। পরে শুরু হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগান। মহিলা-পুরুষদের একাংশ ছুটে যান।
২) এরপর সোনারপুরে যে কর্মীর বাড়িতে অভিষেক যাবেন সেই রাস্তায় একদল মহিলা ও পুরুষ রাস্তার দু’ধারে জমায়েত করতে শুরু করেন। শোনা যায় তাঁরা নিজেরা আলোচনা করছিলেন ‘ডিম তৈরি রাখ’
৩) এরপর গাড়ি থেকে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাইকে করে ওই কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হেলমেট পরেন তিনি। জনতার ভিড়ের জন্য আটকে দেওয়া হয় বাইক।
৪)তারপর শুরু হয় ডিম ছোড়া। পরপর ডিম ছোড়া হতে থাকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে। পাশ থেকে শোনা যায়, ‘মার…মার’
৫) এরপর পিছন থেকে মারধর করা হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় অভিষেকের জামা। তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা আগলে রাখার চেষ্টা করেন তাঁকে। চিৎকার করে-করে কেউ বা কারা অভিষেককে উদ্দেশ্য করে এই বাংলাদেশি…এই বাংলাদেশি বলতে শুরু করেন।