
তারকেশ্বর: রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের পরিকাঠামো যেমন ভালো হওয়া জরুরি, তেমনই সঠিক সময়ে রোগীর হাসপাতালেও পৌঁছনো দরকার। কিন্তু সেই পরিষেবাই যে বেহাল! ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার বেহাল দশার ছবি ধরা পড়ল তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে। চরম ভোগান্তির শিকার এক প্রসূতি। অভিযোগ, একদিকে যেমন অ্যাম্বুল্যান্স অমিল, তেমনই চিকিৎসকদের মধ্যেও নেই কোনও সামঞ্জস্যতা!
এদিন তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন অনামিকা গরাং নামক এক প্রসূতি। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালের রেফার করা হয়। সাড়ে দশটার পর থেকেই সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সরকারি নম্বর ১০২-এ বারবার কল করেন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার জন্য।
বারবারই ফোনে বলা হয়, ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে হাজির হবে অ্যাম্বুল্যান্স। আরও বলা হয়, এই মুহূর্তে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্স নেই। অবশেষে সকাল সাড়ে দশটা থেকে অপেক্ষা করার পর দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্স পান প্রসূতি।
প্রসূতিকে বলা হয় যে অ্যাম্বুল্যান্স নেই, অথচ তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে মধ্যেই দুটি ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ঘণ্টা পাঁচেক ধরে। নেই কোনও চালক।
যেখানে ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সপ্তাহে ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দেওয়ার কথা এবং ফোন করলে ১৫ মিনিটের মধ্যে পরিষেবা পাওয়ার কথা, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পেলেন না ওই প্রসূতি। চরম এই অপব্যবস্থার দায় কার ? উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে, তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে বিএমওএইচ (BMOH) জানেনই না যে এক প্রসূতিকে রেফার করা হয়েছে। এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালের আধিকারিকের সঙ্গে অন্যান্য চিকিৎসকদের কোনও সামঞ্জস্য নেই?
প্রসূতি ও তার আত্মীয়রা অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য বারবার ফোন করলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই জানে না এই ঘটনার কথা।
বিষয়টি কানে যেতেই বিএমওএইচ আশ্বস্ত করে বলেন, যদি এরকম কোনও রোগী অপেক্ষা করেন, তবে তাঁর জন্য দ্রুত ১০২ অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১০২ এ যারা দায়িত্বে আছেন তাদের শোকজ করা হবে।