
বারাসত: আরও বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্য দেবরাজ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিট জমা করল পুলিশ। সেই চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে পুলিশ। বিপুল অর্থের লেনদেনের হদিস মিলেছে দেবরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে।
রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১২টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মূলত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মনোনয়নপত্রে যে সম্পত্তির হলফনামা দাখিল করেছিলেন, তা সন্দেহজনক বলেই অভিযোগ করেছিলেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর দাবি ছিল, কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে দেবরাজ-অদিতির, যা ভোটের আগে বেনামে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয় যে জগদীশপুর, রাজারহাট, থাকদাড়ি, তেঘরিয়া, শ্যামনগর, সাতগাছি এবং কালিম্পং-এ অবস্থিত বেশ কয়েকটি সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হলফনামা দাখিলের আগে সেই সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি এবং দানপত্রের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে, তারও উল্লেখ নেই। ডিসি গ্লোবাল সংস্থার মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ ছিল।
গত ১ জুলাই দেবরাজ চক্রবর্তীকে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ এবং রাজ্য এসটিএফ। এরপর গত ৬ অগস্ট দেবারাজের বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা পড়ে। ৭০ দিনের মাথায় আজ তৃতীয় চার্জশিট পেশ করা হয় বারাসাত আদালতে। মোট ১৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে নেমে তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। অন্যদিকে, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে।
সংগঠিত অপরাধ, সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জাল দলিল তৈরি করা, প্রতারণা অসাধুভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর, জাল সিল ব্যবহার করা সহ একাধিক অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে এ দিন দাখিল করা চার্জশিটে। পরবর্তী তদন্ত এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।