
কলকাতা: ভাগ হয়েছে তৃণমূল (TMC)। ভাগ হয়েছে সভা-কর্মসূচিও। এর আগে ২১ জুলাই পালন নিয়ে দুই তৃণমূল শিবিরের (Kalighat TMC-Ritabrata TMC) টানাপোড়েনের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। এবার আরও এক সভাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ২৮ অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। প্রত্যেক বছর মেয়ো রোড চত্বরে TMCP-র প্রতিষ্ঠা দিবস পালন হয়। তবে, এবার ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে নতুন করে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূলের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন কোহিনূর মজুমদার, সুদীপ রাহা। সূত্রের খবর, ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন নিয়ে ছোট ছোট করে বৈঠক সেরেছে ঋতব্রত শিবির। জানা গিয়েছে, পুলিশের কাছে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের অনুমতি চাইবে ঋতব্রত শিবির। সূত্রের খবর, বৈঠকে তেমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুদীপ রাহা ও কোহিনূরদের সংগঠন।
এদিকে, পিছিয়ে নেই কালীঘাটপন্থী শিবিরও। দল ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে ছাত্র সংগঠন তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁরাও গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করার জন্য অনুমতি চাইবে পুলিশের কাছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক মহল মনে করছে ২৮ অগস্টে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসেও ফের ২১ জুলাইয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল, আরেকদিকে ঋতব্রত তৃণমূল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলছেন তাঁরাই আসল তৃণমূল। কে আসল, কে নকল, কার কাছে দলের প্রতীক থাকবে, দলের তহবিল কার হাতে থাকবে…এই নিয়ে বিবাদ পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে কিছু জানানো হয়নি। তবে, ইতিমধ্যেই সভা-কর্মসূচি ভাগাভাগি হতে শুরু করেছে। ২১ জুলাইয়ের দিনও দেখা গিয়েছে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা করেছে কালীঘাট তৃণমূল। যদিও সভার অনুমতি পেতে যেতে হয়েছিল হাইকোর্ট পর্যন্ত। তারপরও পুরনো জায়গায় সভা করার অনুমতি পাননি তাঁরা। তবে, ঋতব্রত তৃণমূলকে আগেই মেয়ো রোডে সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ২৮ অগস্ট কোন তৃণমূল কোথায় সভা করার অনুমতি পায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।