
পূর্ব বর্ধমান: বুধবার বিকেলেই হঠাৎ দেখা যমরাজের সঙ্গে। ব্যস্ত জিটি রোডের মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্বয়ং যমরাজ। কার্জনগেটের কাছে পথ আটকে তিনি। কী করছেন তিনি?
যমরাজ এসেছিলেন সেই চেনা রূপেই। সেই দশাসই ভয়ঙ্কর চেহারা, সেই পাকানো পুরুষ্টু গোঁফ। মাথায় জোড়া সিং। হাতে এক পেল্লাই গদা। কিন্তু যমরাজের এই হঠাৎ সাক্ষাতের কারণ কী?
দশাসই চেহারারা যমরাজ ছুটে যাচ্ছেন রাস্তায়। হেলমেট না পরেই যারা বাইক চালাচ্ছেন, তাদের সচেতন করতে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ জুড়ে প্রচার চলছে। অবশ্য যমরাজ একা নন। রয়েছেন দাবাং অফিসার ট্রাফিক ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্রাফিক পুলিশ আর সিভিক ভলেন্টিয়াররাও উপস্থিত। কেউ হেলমেট না পরা থাকলে তার পথ আটকাচ্ছেন যমরাজ। এক বাইকে তিনজন থাকলেও, প্রত্যেককে আটকানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে হুঙ্কার ছাড়ছেন যমরাজ।
বাজখাই গলায় যমরাজ বাইক আটকে বলছেন, “কী ব্যাপার? হেলমেট নেই কেন মাথায়? আমার কাছে আসার এত তাড়া কেন? নিজে বাঁচুন,অন্যকে বাঁচতে দিন। একশো বছর বাঁচুন। তারপর তো আমি আছিই।” এরপর হু হা হা করে হাসি ও হুঙ্কার ছাড়ছেন তিনি।
শুধু বাইক বা স্কুটিই নয়, অন্য কোনও চারচাকা গাড়ি নিয়ম ভাঙলে, একইভাবে তাদেরও সচেতন করা হচ্ছে। কানে হেডফোন দিয়ে গাড়ি চালালে বা ট্রাফিক আইন ভাঙলেও তাদেরও একইভাবে ধরা হচ্ছে।
মাঝরাস্তায় এইভাবে যমরাজকে দেখতে ভিড় জমেছিল। এই যমরাজের আসল নাম সন্তোষ শর্মা। তিনি ট্রাফিক পুলিশের কর্মী। বহুদিন এই কাজ করছেন। হেলমেট না পড়লে কী হয়, নিজেই দেখেছেন অনেকবার। বিভাগীয় নির্দেশেই তাঁর এই অভিনয়।
অন্যদিকে, এই অভিনব সচেতনতার প্রচারে অবাক হলেও খুশি আমজনতা। এই প্রচার খুব জরুরি মানছেন সবাই। তারা বলছেন, “ভুল হয়ে গিয়েছে। এবারে থেকে নিয়ম মেনে চলব”। যমরাজ অবশ্য খুব দয়ালু। তিনি বলছেন, “তথাস্তু। এবারকার মত ছেড়ে দিলাম। কিন্তু মনে থাকে যেন!”