Islampur: ১২ বছর আগে বিয়ে, শ্বশুরবাড়ি কোথায় জানেন না সফিকুলের স্ত্রী, ষড়যন্ত্রের গিঁট কোথায়?

Safikul Islam’s Wife Unaware of His Activities: স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, সফিকুল এই এলাকার এমনকি এই দেশেরও স্থায়ী বাসিন্দা নয়। তাদের দাবি, সে প্রায়ই দেওনায় তার শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকত এবং সেখান থেকেই নানা কাজকর্ম চালাত। শাহ আলম নামে সখিনার এক প্রতিবেশী বলেন, "সখিনার বাবা নেই। ওরা খুবই গরিব। সেজন্যই বিয়ে দিয়ে দেয়। ২-৩ বছর হল এখানে আসে না সফিকুল। আগে আসত।"

Islampur: ১২ বছর আগে বিয়ে, শ্বশুরবাড়ি কোথায় জানেন না সফিকুলের স্ত্রী, ষড়যন্ত্রের গিঁট কোথায়?
কী বলছেন ধৃত সফিকুল ইসলামের স্ত্রী?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Aug 15, 2026 | 3:53 PM

ইসলামপুর: ১২ বছর আগে বিয়ে হয়েছে। কিন্তু, তিনি জানেন না শ্বশুরবাড়ি কোথায়। বাপের বাড়িতে থাকেন। সেখানেই স্বামী আসতেন। থাকতেন। গত ২ বছর ধরে স্বামীও আর আসেন না। কিন্তু, শুক্রবার পুলিশ স্বামীকে নিয়ে পৌঁছতেই চমকে গেলেন পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত সফিকুল ইসলামের স্ত্রী সখিনা বিবি। তিনি দাবি করলেন, স্বামী কী করেন, তা জানেন না। আবার সখিনার প্রতিবেশীদের সন্দেহ, সফিকুল ভারতীয়ই নন। তিনি বাংলাদেশি কিংবা অন্য কোনও দেশের নাগরিক।

পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত সফিকুলের শ্বশুরবাড়ি উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের পাঞ্জিপাড়ার দেওনা গ্রামে। ১২ বছর আগে গ্রামে সখিনার সঙ্গে বিবাহ হয় সফিকুলের। সফিকুল ধরা পড়ার পর টিভি৯ বাংলা পৌঁছে গিয়েছিল পাঞ্জিপাড়ার দেওনা গ্রামে। চারপাশে নির্জন পরিবেশ। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, এই এলাকাকে ঘিরেই এত বড় চক্রান্তের তদন্ত চলছে।

সফিকুলের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেখা গেল, বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনির একটা ছোট ঘর। সেখানেই তিন নাবালক পুত্রকে নিয়ে থাকেন সখিনা। সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান। এসটিএফ গ্রেফতার করার পর সফিকুলকে আনা হয়েছিল দেওনা গ্রামে। কারণ, এই গ্রামে বসেই সফিকুল চক্রান্তের জাল বুনত বলে অভিযোগ।

তবে সখিনা দাবি করেন, তিনি স্বামীর বিষয়ে বিশেষ কিছু জানেন না। এমনকি, দাবি করেন, বিয়ের পর কোনওদিন শ্বশুরবাড়ি যাননি। বাপের বাড়িতেই থাকেন। ফলে সফিকুলের বাড়ি কোথায়, তাও জানেন না। বলেন, “আমার বাবাও নেই। ভাইও নেই। আমাকে বিয়ে দিয়েছিল। আগে আমার স্বামী এখানে থাকত। ২ বছর ধরে এখানে থাকে না। পুলিশ গ্রেফতার করার আমার স্বামীকে এখানে এনেছিল। আমাদের পুলিশ কিছু বলেনি। আমাকেও পুলিশ কোনও কিছু জিজ্ঞাসা করেনি।” তবে তিনি দাবি করেন, “আমার স্বামী টোটো চালায়।” গত ২ বছরে মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হত বলে জানালেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, সফিকুল এই এলাকার এমনকি এই দেশেরও স্থায়ী বাসিন্দা নয়। তাদের দাবি, সে প্রায়ই দেওনায় তার শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকত এবং সেখান থেকেই নানা কাজকর্ম চালাত। শাহ আলম নামে সখিনার এক প্রতিবেশী বলেন, “সখিনার বাবা নেই। ওরা খুবই গরিব। সেজন্যই বিয়ে দিয়ে দেয়। ২-৩ বছর হল এখানে আসে না সফিকুল। আগে আসত।”

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঞ্জিপাড়ায় বিএসএফের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকার কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সফিকুল শ্বশুরবাড়িকে সম্ভাব্য ডেরা হিসেবে ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে গোটা ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন এসটিএফ আধিকারিকরা। আইএসআই যোগের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us