
ইটাহার: ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালে নার্সদের চেঞ্জিং রুমে স্পাই পেন ক্যামেরা রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগের তির হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত চিকিৎসককে পুলিশ আটক করেছে। তবে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে নাকি সেফ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
অভিযোগ, চলতি মাসের ১০ তারিখ ওই চিকিৎসক নার্সদের চেঞ্জিং রুমে একটি স্পাই পেন ক্যামেরা রেখে যান। একজন নার্সের নজরে বিষয়টি আসতেই তিনি পেনটি সরিয়ে রাখেন। পরে অভিযুক্ত চিকিৎসক সেটি নিজের বলে স্বীকার করেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজেও ওই দিন তাঁকে একাধিকবার নার্সদের চেঞ্জিং রুমে প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। এরপর নার্সরা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
হাসপাতালের নার্স অঙ্কিতা সাহা জানান, পেনটিতে আলো জ্বলতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় তিনি সেটি সরিয়ে রাখেন। পরে এটি স্পাই ক্যামেরা হতে পারে বুঝতে পেরে সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। অপর এক নার্স রিয়া সাহা বলেন, এটি অত্যন্ত নোংরা চক্রান্ত এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইটাহারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির জেলা সম্পাদিকা তথা ইটাহারের নেত্রী সবিতা বর্মন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি সিএমওএইচ অপূর্ব কুমার রায় জানান, তদন্ত সম্পন্ন করে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।