
উত্তর দিনাজপুর : স্বাধীনতা দিবসের দিন পাক গুপ্তচর সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ (STF)। এদিকে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের মধ্যে শফিকুলের (Shafikul) গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। শফিকুলের বাড়ি মূলত বিহারের কিষণগঞ্জে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, কিষণগঞ্জের পার্শ্ববর্তী পান্জিপাড়া এলাকার দেওনায় অবস্থিত শফিকুলের শ্বশুরবাড়ি। তদন্তাকারীদের অনুমান, শ্বশুরবাড়িকেই সম্ভাব্য ডেরা হিসেবে ব্যবহার করত শফিকুল।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, দেওনা এলাকায় বিএসএফের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকার কৌশলগত গুরুত্বের কারণে শফিকুল শ্বশুরবাড়িটিকেই নিরাপদ ডেরা হিসেবে বেছে নিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, শফিকুলের যাতায়াত, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং শ্বশুরবাড়িতে কারা আসা-যাওয়া করত, সেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখানে কোনও গোপন বৈঠক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলত কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাক চর সন্দেহে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। ধৃতদের নাম রশিদুল হক, নূর নাসিরুদ্দিন আলি ও শফিকুল ইসলাম। ধৃতরা পাকিস্তানের আইএসআই-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করত বলে সন্দেহ এসটিএফ-এর। অভিযোগ, ভারতীয় সিমকার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করা হত। এসটিএফ সূত্রে খবর, জাল নোট তৈরির কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল ওই তিন গুপ্তচার। প্রত্যেকেই বাংলাদেশে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। শনিবার ধৃতদের দিনহাটা আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।