
কলকাতা: হাসপাতালগুলিকে দালাল মুক্ত করতে এবার কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দু-সরকারের। আজ স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে কন্ট্রোল রুমের নজরদারি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সেখান থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাসপাতালগুলিকে দালালমুক্ত করতে স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে কড়া নজরদারি চালানো হবে। কিন্তু, কারা দালাল, কারা চিকিৎসক বা চিকিৎসক কর্মী, তা কীভাবে চিহ্নিত করা হবে? তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে।
হাসপাতালের চিকিৎসক, চিকিৎসক কর্মী, রোগী ও পরিজনদের জন্য বিশেষ ব্যান্ড, ব্যাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukhopadhyay) জানিয়েছেন, শনাক্তকরণের জন্য তিন রকমের ব্যাজ হবে। কাদের ক্ষেত্রে কী ব্যাচ, সেই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এখানে শনাক্তকরণের জন্য তিনরকম আইডেন্টিফিকেশন ব্যাজ হবে। একটা চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, নার্স, সাফাই কর্মচারী, গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য কালার কোডেড ব্যাজ হবে। রোগীদের জন্য আলাদা রঙের ব্যান্ড হবে। আর রোগীর বাড়ির লোকেদের জন্যও আলাদা রঙের ব্যান্ড থাকবে। একটা হাসপাতালে এই চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী, নার্স, সাফাই কর্মী, গ্রুপ ডি, রোগী ও রোগীর পরিজন ছাড়া বাকিরা সবাই দালাল। নজরদারি স্বাস্থ্যভবন থেকে হবে।”
৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া হেডমাস্টার বলে সম্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,”মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খুব কড়া হেডমাস্টারমশাই। ৩০ তারিখ শেষ সময় দেওয়া হয়েছে। জানপ্রাণ দিয়ে ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্যভবনে তৈরি হচ্ছে কন্ট্রোল রুম। সেখানেই আজ গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কন্ট্রোল রুমের কাজ খতিয়ে দেখেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে হাসপাতালে দালাল রাজ রুখতে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যভবন থেকে হাসপাতালগুলিতে কড়া নজরদারি চলবে। হাসপাতালে নির্মূল হবে দালালরাজ। তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দু আরও জানান, প্রধান সচিবকে তিনি নার্সদের জন্য ল্যামিনেশন করা ব্যাজ় করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অনেকসময় অভিযোগ ওঠে, যাঁদের ট্রলি নিয়ে যাওয়ার কথা, তাঁরা ইঞ্জেকশন দিয়ে ফেলছেন। এটাকে চিহ্নিত করার জন্য বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রঙের ল্যামিনেশন করা ব্যাজ করতে বলা হয়েছে।