
সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তন্ময় নন্দী ও হীরক মুখোপাধ্যায়
কলকাতা: কেউ মাঠে কাজ করছিলেন। কেউ পুকুরে স্নান করতে যাচ্ছিলেন। কেউ চাষের জমি থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। কিন্তু, বাড়ি ফেরা হল না। সোমবার বজ্রপাতে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে মৃত্যু হল বেশ কয়েকজনের। আহতও হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দেখে নেওয়া যাক, কোন জেলায় বজ্রপাতে কতজনের মৃত্যু হল।
হাওড়ায় মৃত ৩-
হাওড়ার আমতায় বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। সোমবার দুপুর তিনটে নাগাদ আমতার খরদা সোনাময়ী গ্রামে মুষলধারে বৃষ্টির সময় সুশান্ত রায় (৩৪) নামে এক চাষি পুকুর ঘাটে কোদাল ধুয়ে স্নান করতে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাজ পড়ে। তিনি ঝলসে যান। পরে তাঁকে আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
হাওড়ারই জগৎবল্লভপুরে চাষের জমিতে ট্র্যাক্টর নিয়ে কাজ করছিলেন কয়েকজন। কালবৈশাখীর আশঙ্কার মাঝেই আচমকা হওয়া ভয়াবহ বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন দুই চাষি। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সোমবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটে নাগাদ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর ব্লকের মাজু হরিনারায়ণপুর এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের নাম অনুপ কর এবং মানবেন্দ্র মণ্ডল। আহত ব্যক্তির নাম দীপক সাউ।
ঝাড়গ্রামে বজ্রাঘাতে যুবকের মৃত্যু-
বজ্রাঘাতে এক যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামের বিনপুর থানার মাহলাগুড়ি এলাকায়। মৃত যুবকের নাম গোকুল মাহাতো (২৩)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর নাগাদ হঠাৎ করেই এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সে সময়ে নিজের চাষের জমিতে সার দিচ্ছিলেন গোকুল। বৃষ্টি শুরু হতেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হয়। ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। বিকট শব্দ ও এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আশপাশের বাসিন্দারা। তড়িঘড়ি খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ছুটে আসে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় গোকুলকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বাজ পড়ে বাঁকুড়ায় মৃত ২-
বাঁকুড়ায় বড়জোড়ায় বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। আহত হলেন আরও দুজন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম তপন বড়ু। আহতদের নাম বুধন ঘোষ ও ভিখুরাম ঘোষ। আহতদের বড়জোড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বড়জোড়া এলাকায় আজ দুপুরে প্রবল বজ্র-বিদ্যুৎ সহযোগে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সময় বড়জোড়া থানার দেউচা গ্রামের বাসিন্দা তপন বড়ু আমন ধানের জমির কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় আচমকা বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বড়জোড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রায় একই সময়ে পৃথক একটি বজ্রপাতে বড়জোড়ার ভুবনেশ্বর শিব মন্দিরের সামনে গরু চরাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন স্থানীয় ঘোষপাড়ার বাসিন্দা বুধন ঘোষ ও ভিখুরাম ঘোষ। আহত ২ জনকেই বড়জোড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আঘাত গুরুতর থাকায় বুধন ঘোষকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার তেজপাল এলাকায় আমন ধান রোপণের কাজ করার সময় বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই মহিলা। এদিন দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেজপালের বাসিন্দা ববিতা লোহার গ্রামের অদূরে একটি কৃষিজমিতে ধান রোপণের কাজ করছিলেন। আচমকাই সেখানে বজ্রপাত হয়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ববিতা সহ আরও দুই মহিলা কৃষিশ্রমিক। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ববিতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য দুই আহত মহিলার চিকিৎসা চলছে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।