
কলকাতা: রাজ্যজুড়ে বিনামূল্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের ভ্যাকসিন(Cervical Cancer Vaccine) দেওয়ার কাজ শুরু হল। আজ থেকেই বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার অনেকদিন আগেই এই ব্যবস্থা চালু করেছে। আজ বাংলাতেও নতুন সরকারের হাত ধরে টিকাকরণের কর্মসূচি চালু করা হল। উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কোথায়, কীভাবে এই টিকা দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, কী এই জরায়ু মুখ ক্যানসার? সব মেয়েদের কি এই টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক? টিকা না দিলে কী কী সমস্যা হতে পারে? চলুন এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ভারতে এখন বেশ কয়েকটি ক্যানসারের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি ঝুঁকি থাকে ব্রেস্ট ক্যানসার, সার্ভিক্যাল ক্যানসারের মতো রোগগুলি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গোটা বিশ্বে সবথেকে বেশি যে ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হন মহিলারা, তার মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসার চতুর্থ স্থানে। আর ভারতে আর এই ধরনের ক্যানসার কিন্তু প্রাণঘাতী। সময়মতো ধরা না পড়লে বা সচেতন না হলে প্রাণ পর্যন্ত যেতে পারে। তবে, জরায়ু মুখ ক্যানসার কী?
জরায়ুর নিচের অংশ এবং যোনির মধ্যবর্তী অঞ্চলে যে ক্যানসার হয় তাই মূলত জরায়ু মুখ ক্যানসার নামে পরিচিত। এই ক্যানসারের প্রধান কারণ হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (Human papillomavirus)। এই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে, এই ভাইরাস ছাড়াও অরক্ষিত যৌন সঙ্গমের কারণেও সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন মহিলা। জানা গিয়েছে, এই এইচপিভি ভাইরাস মূলত আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনুযায়ী স্থায়ী হয়। অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে ভাইরাস ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়। আর তা যদি নির্দিষ্ট সময়ের থেকে বেশিদিন স্থায়ী হয়, তাহলে তা ক্যানসারে পরিণত হয়।
জরায়ু মুখ ক্যানসারের প্রবণতা সবথেকে বেশি ধরা পড়ে ২০ থেকে ৬৪ বছরের নারীদের মধ্যে। ২০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা কম।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন ১ লক্ষ ২৭ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২৮ হাজার। মৃত্যু হচ্ছে ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার রোগীর।
প্রাথমিক পর্যায়ে সার্ভাইকাল ক্যানসারের লক্ষণ অন্যান্য স্ত্রী রোগের মতোই। আসলে এই ক্যানসারের লক্ষণ সহজে বোঝা যায় না। যোনি থেকে রক্তপাত, মেনোপজের পর রক্তপাত, যোনি থেকে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বের হওয়া, তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা এবং সহবাসের পর যোনি এলাকায় যন্ত্রণা হওয়া- এই ধরনের কোনও উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই এইচপিভি টিকা দেওয়া হলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। তাই, ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। টিকার মাত্র একটি ডোজই দেওয়া হবে। পরে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানায়নি কেন্দ্রীয় সরকার।
তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ১৫-২০ বছর বয়সী মেয়েরা ভ্যাকসিন নিতে পারেন। এক বা দুই ডোজ় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবার ২১ বছর বেশি বয়সী মহিলারাও ছয় মাসের ব্যবধানে দু’টি ডোজ় নিতে পারেন।
১৪ বছরের কিশোরীরা এই টিকা নেওয়ার যোগ্য। কীভাবে টিকা দেওয়া হবে?
টিকা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। প্রথমে তাদের একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। টিকা নেওয়ার পর, কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় কি না, তা দেখার জন্য ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হবে। একটি পরিচয়পত্র দিতে হবে। তবে, এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র না থাকলে বাবা-মার পরিচয়পত্র থাকলেও হবে।