মুড়ি-মুড়কির মতো গুলি চলছে! ট্রাম্পকে ‘চমকে’ দিয়ে বৃহত্তম চিন-রুশ সেনা মহড়া

জুলাই থেকে শুরু হয়েছে Maritime Interaction 2026। পীত সাগরে ছ-দিনের এই মহড়ায় বেজিং ও মস্কো নিজেদের ভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে আধুনিক সব মারণাস্ত্র দেখাল বিশ্বকে। আসলে সতর্ক করল পেন্টাগন ও CIA-কে। জলের নিচে, মহাসাগরে খেল দেখাল রুশ সাবমেরিন 'উফা'। অন্যদিকে, কাইফেং ও অ্যানশানের মতো ডেস্ট্রয়ার দেখাল কীভাবে জল যুদ্ধে বাজিমাত করতে পারে বেজিং।

মুড়ি-মুড়কির মতো গুলি চলছে! ট্রাম্পকে চমকে দিয়ে বৃহত্তম চিন-রুশ সেনা মহড়া

| Edited By: আকাশ মিশ্র

Aug 03, 2026 | 12:34 PM

দীপেন্দু পাল

ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা যত বাড়ছে,পাল্লা দিয়ে একজোট হচ্ছে মার্কিন বিরোধী মহা শক্তি জোট। এবার মহড়ার ‘অছিলায়’ যৌথ সামরিক শক্তি প্রদর্শনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুই রাষ্ট্র। রাশিয়া ও চিন। জুলাই থেকে শুরু হয়েছে Maritime Interaction 2026। পীত সাগরে ছ-দিনের এই মহড়ায় বেজিং ও মস্কো নিজেদের ভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে আধুনিক সব মারণাস্ত্র দেখাল বিশ্বকে। আসলে সতর্ক করল পেন্টাগন ও CIA-কে। জলের নিচে, মহাসাগরে খেল দেখাল রুশ সাবমেরিন ‘উফা’। অন্যদিকে, কাইফেং ও অ্যানশানের মতো ডেস্ট্রয়ার দেখাল কীভাবে জল যুদ্ধে বাজিমাত করতে পারে বেজিং।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুই মিলিটারি একযোগে শুরু করেছে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় যৌথ মহড়া। সিনো-রাশিয়ান ন্যাভাল ড্রিল। পোশাকি নাম Maritime Interaction 2026। নাম শুনে ভাববেন না, মহড়া শুধু জলপথে হচ্ছে। জল-স্থল-আকাশ-মহাকাশ-ইলেক্ট্রনিক-সাইবার ও ভাইরাস হামলার মোকাবিলা কীভাবে করতে হবে, দেখে নিচ্ছে দুই দেশ। দেখে নেওয়া হচ্ছে দুই দেশের কাছে কত শক্তিশালী মিসাইল আছে। কার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কত আধুনিক? জলপথে যুদ্ধ হলে উদ্ধারকাজে কার রেসকিউ শিপ কত আগে পৌঁছবে ? রাশিয়া ও চিন দুই দেশই তাদের সবচেয়ে আধুনিক মারণাস্ত্র, সাবমেরিন, এয়ার ডিফেন্স নিয়ে পৌঁছেছে চিনের শ্যাংডং প্রদেশের কাছে বন্দর শহর কিংডাও-তে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা PLA ও রাশিয়ান নেভি এখানে লাইভ-ফায়ার ড্রিল চালাচ্ছে। আশেপাশের বহুদূর পর্যন্ত এলাকাকে জনশূন্য করে দেওয়া হয়েছে। গুলি-মিসাইল চলছে মুড়ি মুড়কির মতো। কিংডাও চিনের অন্যতম বড় নৌসেনা ঘাঁটি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্ৰশান্ত মহাসাগরে সেনা, যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে এই রুট সবচেয়ে কাছে পড়ে। সেই রুটেই মহড়া। ইঙ্গিত স্পষ্ট। যে কোনও যুদ্ধের জন্য তৈরি দুই দেশ-ই। প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন জোটকে কড়া বার্তা চীন ও রাশিয়ার ১২তম যৌথ নৌমহড়ায়। মহড়া শেষ হতেই কিংদাও বন্দর থেকে বেরিয়ে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরে।

চিন-রাশিয়া জয়েন্ট সি ২০২৬

কে কী এনেছে?

রাশিয়া এনেছে শক্তিশালী গাইডেড-মিসাইল ক্রুজার ‘ভারিয়াগ’

এই রণতরী জাহাজ-বিধ্বংসী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম

‘রেজকি’ স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ সাবমেরিন, বিমান হামলা ঠেকাতে ওস্তাদ

রুশ উফা সাবমেরিন নিঃশব্দে শত্রুর জাহাজে টর্পেডো হামলা চালায়

চিনা ‘কাইফেং’ গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার বিমান, মিসাইল ও সাবমেরিন ধ্বংস করবে

‘আনশান’-ও আরেক মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শত্রু শিবিরে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে

যুদ্ধের সময় মাঝসমুদ্রে জ্বালানি ও গোলাবারুদ পৌঁছে দেবে কেকেক্সিলিহু

এ তো মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি অস্ত্রের কথা বললাম। এছাড়াও দুই দেশ আরও আধুনিক সমরাস্ত্র ও বাহিনীকে এই মহড়ায় ব্যবহার করেছে। যেমন, শিপবোর্ন হেলিকপ্টার। যুদ্ধজাহাজ থেকে উড়তে ও নামতে সক্ষম বিশেষ সামরিক হেলিকপ্টার, যা সাবমেরিন সনাক্তকরণ এবং উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত হয়। মহড়ায় দেখা গেছে, অ্যাডভান্সড আনম্যানড সিস্টেম। ড্রোনের মতো আধুনিক চালকহীন আকাশ ও সমুদ্রযান। দুই দেশেরই বিশেষ মেরিন কমান্ডো এই অভিযানে অংশ নেয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মহড়ার পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরে দুই দেশের সাবমেরিন ও রণতরীর যৌথ টহল প্রমাণ করে যে, নিজেদের মূল ঘাঁটি থেকে বহুদূরে গিয়েও চীন ও রাশিয়া এখন দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অপারেশন চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

এমনিতেই চিনের সঙ্গে এখন ট্রাম্পের প্রায় আদায়-কাঁচকলায় সম্পর চলছে। বিশেষত, গত ৬ জুলাই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন থেকে চিনের নতুন মিসাইলের টেস্ট ফায়ারকে কেন্দ্র করে। ৭৩০০ কিলোমিটার পাল্লার নয়া চিনা অন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল সোজা গুয়াম ও ফিলিপিন্সে গিয়ে পড়ে। ফলে ওই এলাকায় মার্কিন সেনার একাধিপত্যকে সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ করে বসে বেজিং। চিন এই মিসাইল টেস্টকে রুটিন বললেও আমেরিকা ও তার সঙ্গী জাপান, নিউ জিল্যান্ডের মতো দেশ চিনা আগ্রাসনের ব্যাপক সমালোচনা করে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলের দেশগুলির অভিযোগ, নিউক্লিয়ার-ফ্রি-জোন-ট্রিটি ভেঙেছে চিন। এর উপযুক্ত মূল্য চোকাতে হবে। কিন্তু মার্কিন হুঁশিয়ারিকে যে বেজিং পাত্তা দেয় না, এই নয়া মহড়া সেটাই প্রমাণ করল। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বেইজিং ও মস্কোর এই জোট যে আগামীদিনে ওয়াশিংটনের মাথাব্যথার বড় কারণ হতে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us