China-Pakistan: ফের বেয়াদপি চিনের! গবেষণাগার কি পাকিস্তান?

China-Pakistan Military Cooperation: অপারেশন সিদুঁরের সময় পাকিস্তানকে লাইভ ল্যাবরেটরি হিসাবে ব্যবহার করেছিল চিন। কয়েক মাস আগেই প্রমাণ সহ সেই দাবি করেছে ভারতীয় সেনা। একা চিন নয়, পাকিস্তানকে দেদার অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে তুরস্ক-ও। ওপেন সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারের ডেটা বলছে, সম্প্রতি ভারী পণ্য পরিবহনকারী চিনা ও তুর্কিশ বিমান একটানা ৬০ ঘণ্টা রাওয়ালপিন্ডি ও করাচির পাক এয়ার বেসে ওঠানামা করেছে।

China-Pakistan: ফের বেয়াদপি চিনের! গবেষণাগার কি পাকিস্তান?
পাকিস্তানকে কি গবেষণাগার বানাল চিন?

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Sep 19, 2026 | 4:35 AM

নিজেদের আচরণ শুধরোতে পারল না চিন! বেজিংয়ের রক্তেই যেন দ্বিচারিতা! সদ্য, দিল্লিতে জি-২০ সামিটে এসে সীমান্তে শান্তি ও স্থায়ী সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেন শি জিনপিং। আর অন্যদিকে, চিনা প্রেসিডেন্ট বাড়ি ফিরে যেতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পড়ুন টিভি৯ বাংলার বিশেষ প্রতিবেদন।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও সেনা সূত্রে খবর, নিজেদের আগ্রাসনের জন্য এবার পাকিস্তানকে কাজে লাগাচ্ছে চিন। যা আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী। ভারতীয় সেনা জানতে পেরেছে, করাচির আকাশে দুটি পাক যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরেছে চিনা এরিয়াল ট্যাঙ্কার। অন্যদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর আরবসাগরে রুটিন টহলদারির সময় ভারতের জাহাজে ধাক্কা মারে পিএনএস হুনান। এই প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, চিনের কাছ থেকে সম্প্রতি ৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করে হাঙর ক্লাস ৮টি সাবমেরিন কিনে নৌসেনার শক্তি বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ। এভাবে পাকিস্তানের মাটিকে খুল্লামখুল্লা ব্যবহারের সুযোগ বেজিং যদি নিয়মিত পায়, তাহলে ভারতের নিরাপত্তার জন্য সেটা বড় চ্যালেঞ্জ। কেন? আসুন বুঝিয়ে বলি।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

ইদানিং করাচিকে দেদার অস্ত্র সরবরাহ করছে চিন ও তুরস্ক। এই খবর ভারতীয় গোয়েন্দারা আগেই পেয়েছেন। এবার সামনে এল এমন বিস্ফোরক তথ্য, যা দিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে। করাচিতে দুটি জে-১৬ যুদ্ধবিমানে মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরেছে চিনা এরিয়াল ট্যাঙ্কার Y-২০। স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্ট থেকে এটা ভারতের জন্য খুব বড় চ্যালেঞ্জ। চিন যদি সামরিক কারণে পাকিস্তানের মাটিকে ব্যবহারের ছাড়পত্র পায়, সেটা ভারতের সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিপদ! চিনা বায়ুসেনা ভবিষ্যতে ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী অপারেশন চালাতে পারবে। করাচি বা নূর খান ঘাঁটিতে চিনা যুদ্ধবিমান জ্বালানি ভরে, আরও বেশিদিন ভারতের বিরুদ্ধে লড়তে পারবে। তখন শুধুমাত্র তিব্বত ঘাঁটির উপর চিনকে নির্ভর করতে হবে না। পাকিস্তানকে ফরোয়ার্ড বেস হিসাবে ব্যবহার করে আরবসাগরের উপর দিয়ে ভারী অস্ত্রশস্ত্র উড়িয়ে এনে ভারতকে ঘিরতে পারবে চিন। আর ভারতকেও তখন সীমান্তে একসঙ্গে দুটো ফ্রন্টে লড়তে হবে। ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে পাকিস্তানের সঙ্গে, নর্দার্ন ফ্রন্টে চিনের সঙ্গে। জুন মাসেই এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তবে ভারতও যে সেই মতোই প্রস্তুত, সেটাও সে সময়ই স্পষ্ট করেছিলেন জেনারেল দ্বিবেদী।

পাকিস্তান কি চিনের ল্যাবরেটরি?

  • পাকিস্তান সামরিকভাবে ৮১ শতাংশ চিনের উপর নির্ভরশীল
  • পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, মিসাইল, ডিফেন্স সিটেম চিনের দান
  • বিশ্বের আর কোনও দেশ অন্যের উপর এতটা নির্ভরশীল নয়
  • অপারেশন সিঁদুর-এ পাকিস্তানকে গবেষণাগারের মতো ব্যবহার চিনের
  • চিনা অস্ত্র যুদ্ধে কেমন পারদর্শী, লাইভ দেখে নেয় বেজিং
  • গবেষণার ইঁদুর বা গিনিপিগের মতো ব্যবহার করে পাক সেনাকে

অপারেশন সিদুঁরের সময় পাকিস্তানকে লাইভ ল্যাবরেটরি হিসাবে ব্যবহার করেছিল চিন। কয়েক মাস আগেই প্রমাণ সহ সেই দাবি করেছে ভারতীয় সেনা। একা চিন নয়, পাকিস্তানকে দেদার অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে তুরস্ক-ও। ওপেন সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারের ডেটা বলছে, সম্প্রতি ভারী পণ্য পরিবহনকারী চিনা ও তুর্কিশ বিমান একটানা ৬০ ঘণ্টা রাওয়ালপিন্ডি ও করাচির পাক এয়ার বেসে ওঠানামা করেছে। কার্গো বিমানে চাপিয়ে চিন ও তুরস্ক থেকে পাকিস্তানে ড্রোন, রেডার, ও মিলিটারি হার্ডওয়্যার সাপ্লাই করা হতে পারে অনুমান। যদিও ইসলামাবাদ এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। অপারেশন সিঁদুর-এ নাস্তানাবুদ পাকিস্তান এবার কি দ্বিতীয়বার ভারতের ঘুঁটি সাজাচ্ছে?

শি জিনপিং ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোগানের হাতে শাহবাজ শরিফ কি স্রেফ পুতুল?

  • বেজিংয়ের অস্ত্রের সবথেকে বড় ক্রেতা ইসলামাবাদ
  • চিনা অস্ত্রের ৬৩ শতাংশ রফতানি হয় শুধু পাকিস্তানেই
  • ড্রোনের জন্য পাকিস্তানের বড় ভরসা তুরস্ক
  • ইসলামাবাদকে মাঝারি ও দুপাল্লার সস্তা ড্রোন পাঠায় আঙ্কারা
  • পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদির মধ্যে জয়েন্ট ডিফেন্স চুক্তি রয়েছে

তাই কি ভারতের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়ার সাহস পাচ্ছে পাকিস্তান?

ভারতীয় সেনা জানতে পেরেছে, কোটি কোটি টাকার অস্ত্র নিয়ে করাচির মাসরুর এয়ার বেস ও রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ার বেসে চিন ও তুরস্কের বিমান লাগাতার উড়ছে-নামছে। বহুদিন পর এবার এমনটা ঘটছে। তুর্কিশ এয়ার ফোর্সের সি-১৩০ ও এ-৪০০ ভারী পণ্যবাহী বিমান পাকিস্তানে কী এয়ার ড্রপ করল? চিনা Y-২০ এরিয়াল ট্যাঙ্কার দুটি পাক J-১৬-কে মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। চীনে তৈরি জে-১১ সিরিজের অন্যতম আধুনিক বিমান এই জে-২০। এয়ার টু এয়ার ও এয়ার টু গ্রাউন্ড – দুরকম অপারেশনই চালাতে পারে। ভারতের বিরুদ্ধে কি নতুন চক্রান্ত করছে পাকিস্তান? অপারেশন সিঁদুর-এ ল্যাজে গোবরে হয়েও শিক্ষা নেই?

ভারত এখন একসঙ্গে দুই ফ্রন্টেই যুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুত। চিনা উস্কানি থামাতে লখনউতে তৈরি হয়েছে নর্দার্ন থিয়েটার কমান্ড। পাকিস্তানকে রুখতে অপারেশনাল রয়েছে জয়পুরে ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড। মোদী জমানায় জলপথে হামলা রুখতে কোচিতে মেরিটাইম থিয়েটার কমান্ড। ব্রিকস সামিটে ভারতকে আরও এস-৪০০ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্য ভারতের বানানো আকাশতীর, সমর ডিফেন্স সিস্টেম তো রয়েছেই। আকাশপথে চিনের তিব্বত ঘাঁটির সঙ্গে যুঝতে হাসিমারা -সহ শিলিগুড়ি করিডরের কাছে একাধিক ঘাঁটিতে সুখোই, রাফাল, মিগ মোতায়েন রেখেছে ভারত। এমনকী, মহাকাশ থেকে ভারতকে সুরক্ষা দিতে ৫২টি স্পাই স্যাটেলাইট কাজ করছে অবিরাম।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us