Donald Trump: ‘হয় চুক্তি, না হলে আমেরিকা কাজ শেষ করে দেবে’, ফের ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

Donald Trump warns Iran: ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, "যেভাবেই হোক আমরা জিতব। হয় চুক্তি হবে, নয়তো কাজ শেষ করে দেব।" তবে সামরিক সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চান বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের আরও দাবি, তিনি যুদ্ধ চান না, কারণ তাতে ইরানের প্রায় ৯.১ কোটি সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।"

Donald Trump: হয় চুক্তি, না হলে আমেরিকা কাজ শেষ করে দেবে, ফের ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ডোনাল্ড ট্রাম্পImage Credit source: PTI

Jul 07, 2026 | 7:42 AM

ওয়াশিংটন: চলছে সংঘর্ষবিরতি। সেইসঙ্গে ইরানে (Iran-US Relation) এখন রাষ্ট্রীয় শোক। এই আবহেই তেহরানকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইরানকে ফের নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের কড়া বার্তা, “আমেরিকা হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছবে, তা না হলে কাজ শেষ করে দেবে”। তাঁর দাবি, চাইলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে আমেরিকা।

ইরানে চলছে প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) শেষকৃত্য। ৯ জুলাই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে পৌঁছেছে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। শোকে ভেঙে পড়েছেন ইরানের নেতারা। এরই মধ্যে দিন কয়েক আগেই ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেছিলেন, তাঁরা ভালো বলেই ইরানকে এক সপ্তাহ ছুটি বা ছাড় দিয়েছে। এবার আরও একবার ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।

এক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যেভাবেই হোক আমরা জিতব। হয় চুক্তি হবে, নয়তো কাজ শেষ করে দেব।” তবে সামরিক সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চান বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের আরও দাবি, তিনি যুদ্ধ চান না, কারণ তাতে ইরানের প্রায় ৯.১ কোটি সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে প্রয়োজনে আমেরিকা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের কথায়, “আমরা চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সেতু ভেঙে দিতে পারি। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারি। তাদের সব বড় প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দিতে পারি। এখন তাদের হাতে আর অর্থও নেই।” তাঁর আরও দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে আমেরিকার।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য

কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকা চাইলে একসঙ্গে ইরানের অবশিষ্ট শীর্ষ নেতাদেরও হত্যা করতে পারে। তাঁর দাবি ছিল, ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-র রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে ইরানের বহু শীর্ষ কর্মকর্তা একত্রিত হয়েছিলেন এবং চাইলে তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো সম্ভব ছিল।এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওরা সবাই এক জায়গায় ছিল। একটি হামলাতেই সবাইকে শেষ করে দেওয়া যেত। কিন্তু আমরা তা করিনি। কারণ তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউই বেঁচে থাকত না।”

ট্রাম্পের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইরান

ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে ইরান। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক্সে পোস্ট করে বার্তা দেয়, “মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়।” ইরানের দাবি, আমেরিকা কখনওই খামেনেইয়ের মৃত্যুতে দেশবাসীর শোক ও আবেগ বুঝতে পারবে না। দূতাবাসের বার্তা,”আপনারা আয়াতোল্লাহ
খামেনেইকে হত্যা করেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শকে নয়। তাঁর প্রভাব আরও ছড়িয়ে পড়বে।”

খামেনেইয়ের শেষকৃত্য

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRIB-এর দাবি, প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ হেলিকপ্টারে করে কোম শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আল জাজিরা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানেই শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা চলছে। এরপর মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে পরবর্তী ধর্মীয় আচার পালনের জন্য।

Follow Us