
ওয়াশিংটন : তড়িঘড়ি বিমান বদল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)। আমেরিকা থেকে তুরস্কে গিয়েছিলেন কাতারের উপহার দেওয়া বিশেষ বিমানে। কিন্তু, আমেরিকায় (Iran-US Conflict) ফিরলেন তিরিশ বছরের পুরনো একটি বিমানে। ট্রাম্পের এই বিমান বদলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রে জোর চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। শুধু তাই নয়, তাঁকে খুন করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর বিমানে থাকা সাংবাদিকদেরও করলেন বিশেষ সতর্ক। কী কারণে বিমান বদল, হঠাৎ কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?
ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের হিট লিস্টে নাম রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁকে খুনের ছক কষা হচ্ছে। এমনকী, মাঝ আকাশে বিমানে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। নিরাপত্তার কারণেই কি বিমান বদলের সিদ্ধান্ত?
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প প্রথমে ব্রিটেনের আরএএফ মিল্ডেনহল বিমানঘাঁটিতে নামেন। সেখানে কিছুক্ষণ বিরতির পর পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকা-ইরান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই কাতারের দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউজ়ের তরফে জানানো হয়েছে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সব উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তবে, নতুন বিমানটিও কোনওভাবেই নিরাপদ নয়। হোয়াইট হাউজ়ের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তায় একাধিক স্তরের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে বিভ্রান্তিমূলক কৌশল এবং অবস্থান গোপন রাখার মতো পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। এমনও জানা গিয়েছে, ট্রাম্প যে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরছিলেন, উড়ানের শুরুর দিকে কিছু সময়ের জন্য তার ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। ট্রান্সপন্ডারই বিমানের লাইভ অবস্থান জানায়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য নিজে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমান বদলের দাবি অস্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে জানিয়েছেন, ইরানের হিট লিস্টে রয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা সম্ভবত বিপজ্জনক বিমানে রয়েছেন। আমাকে সবসময়ই হুমকির মুখে থাকতে হয়। ওদের (ইরানিরা) হিট লিস্টে একেবারে প্রথমেই রয়েছি আমি। আমার যদি কিছু হয়, তবে আপনাদেরও সেই একই অবস্থা হবে।” তাঁর দাবি, পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতেই তিনি পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে ফিরতে চেয়েছিলেন।
এদিকে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়। ৭ জুলাই হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। এর পাল্টা জবাবে ইরানের একাধিক একাধিক শহর, বন্দরে হামলা চালায় আমেরিকা। পরে বাহরিন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। সেদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে। যদিও কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে,শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে,চুক্তি ভঙ্গ করে হামলা প্রতিঘাত বাড়ালে আমেরিকাকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।