
ওয়াশিংটন: ইরান-আমেরিকার চুক্তিতে (Iran-US Peace Deal) এখনও আনুষ্ঠানিক সই-সাবুদ বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে একটি খবর ছড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সই হওয়ার পরই ইরানকে (Iran) ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলার দিতে চলেছে আমেরিকা। কিন্তু, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানকে কোনও রকম আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে না।
ইরান-আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন। প্রাথমিকভাবে একটি খসড়া চুক্তিতে সই করেছে দুই দেশের নেতা। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের আনুষ্ঠানিকভাবে সই-সাবুদ হবে। শুক্রবার ওই চুক্তির পরই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। হরমুজ় প্রণালী ইতিমধ্যেই আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু মাইন অপসারণের কাজ চলছে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়ে গিয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে পুরোপুরি খুলে যাবে হরমুজ় প্রণালী। এরই মধ্যে খবর ছড়ায়, ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গড়বে আমেরিকা। কিন্তু ট্রাম্প জানিয়েছেন, এরকম কোনও পরিকল্পনাই নেই।
নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন,”পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান। আর আমেরিকা ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিরোধীরা ছড়াচ্ছে।”
এদিকে, ইজ়রায়েল এই চুক্তিকে আদৌ সমর্থন করবে কি না, সেই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কথা মানতে বাধ্য নয় ইজ়রায়েল। তবে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইজরায়েল শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিকে সমর্থন করবে বলে তাঁর বিশ্বাস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তি ইজরায়েলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর কথায়, “আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের স্বার্থ ইজরায়েলের সঙ্গে মিললেও, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সেটাই স্বাভাবিক।”
তবে চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেই সংশয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে,ইরান হয়তো পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন নাও করতে পারে।