
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ক্ষমতা আরও বাড়ল। সম্প্রতি, একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টে (US Supreme Court)। রায়ে বলা হয়েছে,প্রেসিডেন্ট এখন নীতিগত মতপার্থক্যের কারণেও স্বাধীন ফেডেরাল সংস্থাগুলির প্রধানদের পদ থেকে অপসারণ করতে পারবেন। যদিও, কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রায়ের কারণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল।
৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের ছয়জন বিচারপতি ট্রাম্পের (Donald Trump) পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, বাকি তিনজন বিচারপতি এর বিরোধিতা করেন। মামলাটি ছিল এফটিসির ডেমোক্র্যাট কমিশনার রেবেকা স্লটারকে ঘিরে। তাঁকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিয়োগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে নীতিগত মতভেদের জেরে ট্রাম্প তাঁকে বরখাস্ত করেন। যদিও সেসময় প্রচলিত আইন অনুযায়ী, অযোগ্যতা বা অসদাচরণের মতো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এফটিসির কোনও কমিশনারকে অপসারণ করা যায় না
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কমিশনারকে অপসারণ না করার যে আইনি সুরক্ষা, তা প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার উপর অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আর তা সংবিধানের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন,”এফটিসি দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৮০টি আইন কার্যকর করে। যেহেতু এই কাজ নির্বাহী বিভাগের আওতায় পড়ে, তাই ওই সংস্থার কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিরও থাকা উচিত।
সুপ্রিম কোর্ট রায়ের মাধ্যমে ১৯৩৫ সালের ঐতিহাসিক হামফ্রেজ় এগজিকিউটর বনাম ইউনাইটেড স্টেটস মামলার নজিরও কার্যত বাতিল করেছে। গত ৯১ বছর ধরে ওই রায় স্বাধীন সরকারি সংস্থার প্রধানদের রাজনৈতিক কারণে অপসারণের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছিল।
রায়ের পর ট্রাম্প এটিকে তাঁর বড় জয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পুনর্নিশ্চিতকরণ। ট্রাম্পের কথায়, ১৯৩০-এর দশক থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই ক্ষমতা দাবি করে আসছিলেন এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায়।
তবে আদালতের তিনজন বিচারপতি এই রায়ের বিরোধিতা করেন। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র বলেন,”এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু স্বাধীন সরকারি কমিশন সরাসরি প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তাঁর মতে, এতে সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং প্রেসিডেন্টের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই রায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। একই দিনে আদালত ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের অনুমতি দেয়নি। আদালত জানিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা আগের মতোই বহাল থাকবে।