
কুয়েতো: অন এয়ার শো, কথা বলছিলেন সঞ্চালক। হঠাৎই হুড়োহুড়ি, চিৎকার। বাড়ি বসে দর্শকরা দেখলেন, স্টুডিয়োয় ঢুকে পড়েছে মাস্ক পরা কয়েকজন বন্দুকবাজ। শোয়ে উপস্থিত সকলকে বন্দি বানাচ্ছে, জোর করে মাটিতে মাথা নীচু করে বসানো হচ্ছে। শোনা গেল গুলির আওয়াজও। লাইভ শো চলাকালীনই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটল ইকুয়েডরে (Ecuador)। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের স্টুডিয়োয় ঢুকে পড়ে বন্দুকবাজরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মিলিটারি অভিযানের ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।
মঙ্গলবার ইকুয়েডরে একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে শো চলাকালীন হঠাৎ স্টুডিয়োয় ঢুকে পড়ে দুস্কৃতীরা। মাস্ক পরে বেশ কয়েকজন বন্দুকবাজ অন এয়ার শো-তে ঢুকে পড়ে। শোয়ের যারা অতিথি ছিলেন, তাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মাটিতে বসানো হয়। অ্যাঙ্করকে হাতজোড় করে আবেদন করতে শোনা যায়, “প্লিজ আমাদের মারবেন না, গুলি করবেন না”। এরপরই সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সকলে। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া মিলিটারি অভিযানের ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, দেশের অন্যতম শক্তিশালী অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যরাই টেলিভিশন চ্যানেলে হামলা চালিয়েছিল। সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে ওই গোষ্ঠীর তরফে।
প্রসঙ্গত, কলোম্বিয়া ও পেরুর মাদক পাচারকারীদের সংঘাতের মাঝেই চিড়ে-চ্যাপ্টা হচ্ছে শান্ত ইকুয়েডর। ড্রাগ কার্টেলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার গ্যাংস্টারদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সম্প্রতিই ইকুয়েডরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার জেল থেকে পালিয়ে যায়। তারপরই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার টেলিভিশন চ্যানেলে হামলার পরই প্রেসিডেন্ট নোবোয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান, এই সমস্ত দুষ্কৃতীদের নিকেশ করার জন্য সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।