
ইসলামাবাদ: জেলের মধ্যে কেমন আছেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল। অবশেষে পাক জেলে বন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-র প্রতিষ্ঠাতা ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি এবং বোন নূরিন নিয়াজি। প্রায় ৯ মাস পর তাঁদের এই সাক্ষাৎ। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, চিকিৎসার জন্য বন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর নির্দেশ দিয়েছে সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর পরীক্ষা করার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ফয়সাল সুলতানকে নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিন বিচারপতির বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে, জেল কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তাঁর ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতিও দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ইমরানের পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করার এবং নিজেদের পছন্দের চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর চিকিৎসা করানোর সুযোগ চেয়ে আসছিল।
আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কর্তৃপক্ষ ইমরানের এক বোনকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়। চলতি বছরের শুরুতে জেলে হামলার আশঙ্কা সংক্রান্ত গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পর পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জেলে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। মঙ্গলবার প্রায় ১৫ মিনিট ইমরানের সঙ্গে কথা বলেন নূরিন। জেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ইমরানকে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা তাঁকে জানান। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং কয়েকটি আইনি বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
সাক্ষাতের পর নূরিন জানান, তিনি ইমরানের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে আদালতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। পরে বোন আলিমা খান ও উজমা খানের সঙ্গে তিনি আদিয়ালা জেল থেকে বেরিয়ে যান। জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইমরান খান তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গেও দেখা করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট কথা হয়েছে। এর আগে বুশরা বিবি তাঁর মেয়ে মুবাশশারা শেখ এবং ননদ মেহরুন্নিসার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সাক্ষাৎও প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয় বলে জেল সূত্রে জানা গিয়েছে।