
বিশকেক: রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সাড়ে ৪ বছর ধরে চলা সংঘাত নিয়ে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সোমবার কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদী। সেখানেই তিনি বার্তা দেন, দুই দেশের সংঘাতের অবসানে সমস্ত শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং আগামীতেও করবে। কয়েক বছর আগে মোদীর ‘এটা যুদ্ধের সময় নয়’ বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এদিনের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের ‘অনন্ত যুদ্ধের পরিস্থিতি’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসানের’ দিকে এগোতে হবে। মানবতার এটাই কামনা যে যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।’’ মোদীর কথায়, ‘‘আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে থাকি। শেষবার যখন আমাদের দেখা হয়েছিল, তখনও আপনি আমাকে পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা কাটাতে ভারত সমস্ত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সমস্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ভারত। সমগ্র মানবতার স্বার্থেই এটা প্রয়োজন।’’
প্রধানমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্য ২০২২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সময় করা ‘এটা যুদ্ধের সময় নয়’ মন্তব্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। সেবারও SCO সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মোদীর ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় ভারত বরাবরই এই সংঘাতের সমাধানে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে।
২০২২ সালে মোদী বলেছিলেন, ‘‘ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটা যুদ্ধের সময় নয়। মানবতার জন্য যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি এবং সংলাপে বিশ্বাস করে।’’ ভারতকে ‘বুদ্ধের দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তখন আরও বলেছিলেন, ‘‘সহমর্মিতা ভারতীয়দের অন্যতম পরিচয়। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই বিপদ আসে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রথম দেশগুলির মধ্যে ভারত থাকে। ভারত বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাস করে, তাই যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিতে বিশ্বাস করে। ভারত এই অঞ্চলে শান্তির পক্ষে। এটা যুদ্ধের সময় নয়। আমাদের একসঙ্গে থেকে চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতে হবে। ভারত কূটনীতি ও সংলাপের উপর জোর দেয়।’’
এবারও মানবতার প্রসঙ্গ তুলে শান্তির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়। আমাদের শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’’ তাঁর কথায়, ভারত হল গান্ধী ও বুদ্ধের দেশ। দু’জনেরই বার্তা এক, শান্তির পথই বেছে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এমন সময়ে হল, যার এক সপ্তাহ পরই BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিনের নয়াদিল্লি সফরের কথা রয়েছে।