
তাসখন্দ: আরও দৃঢ় হচ্ছে ভারত ও উজবেকিস্তানের (India-Uzbekistan) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। দুই দেশের সম্পর্ককে এবার সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করবে দুই দেশ। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
উজবেকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। সেখানে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হয়। পরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজ়িয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই বৈঠকেই ভারত ও উজবেকিস্তানের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ১৫তম বর্ষপূর্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন,”এই বিশেষ উপলক্ষে আমরা আমাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই নতুন কাঠামোর মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে আমরা এগিয়ে যাব।” দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিদেশমন্ত্রকের নেতৃত্বে একটি ‘কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’ গঠন করা হবে।
মোদী উজবেকিস্তানকে ‘মধ্য এশিয়ার হৃদয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভারতের মধ্য এশিয়া নীতিতেও উজবেকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতা আরও বাড়াবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,”ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “আগামী বছরগুলিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, যৌথ উৎপাদন এবং যৌথ উন্নয়নকে আমরা উৎসাহিত করব।”
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও চিহ্নিত করেছে দুই দেশ। এই তিন ক্ষেত্রেই ভারত ও উজবেকিস্তান ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারত ও উজবেকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এবার ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, মহাকাশ এবং পরমাণু শক্তির মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইউরেনিয়াম। ভারতে দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে নয়াদিল্লি ও তাসখন্দ। অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা মেটাতে উজবেকিস্তান থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজ়িয়োয়েভ। এটি প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া ৩৬তম আন্তর্জাতিক সম্মান। সম্মান গ্রহণ করে মোদী বলেন,”এটি তাঁর কাছে গর্বের মুহূর্ত। এই সম্মান ভারত-উজবেকিস্তানের বন্ধুত্ব এবং ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন তিনি।