
ওয়াশিংটন: শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ। আবার নতুন করে সংঘাত শুরু হল দুই দেশের মধ্যে। শুক্রবার মার্কিন সেনা ইরানের মিসাইল ও ড্রোন ভাণ্ডারে হামলা চালাল। একইসঙ্গে উপকূলবর্তী র্যাডার সাইটেও হামলা করা হয়। আমেরিকার অভিযোগ, আগে হামলা চালিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক ভেসেলে হামলা করে ইরান। তার প্রত্যুত্তরেই এই হামলা।
গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মউ স্বাক্ষর হয় সুইৎজারল্যান্ডে। দুই দেশের মধ্যে সাময়িক সংঘর্ষ বন্ধ রাখার কথা হয়েছিল। ৬০ দিনের জন্য খুলে যায় হরমুজ প্রণালী। আমেরিকাও তার জাহাজ সরিয়ে নেয়। সব আগের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক হচ্ছিল, ফের ছন্দপতন। মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজের উপরে হামলা করে ইরান। তাদের এই অযাচিত আগ্রাসন যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেঙেছে। তার জবাবেই পাল্টা হামলা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের ড্রোন হামলাকে ‘বোকামো’ বলেই উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ইরানের সমবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর খুব কাছেই, দক্ষিণ ইরানের সিরিকে পরপর তিনটিরও বেশি জোরাল বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গিয়েছে। ইরানের সাংসদ ইব্রাহিম আজ়িজ়ি বলেন, “আলোচনার মাঝে ফের একবার আমেরিকা ইরানের উপরে হামলা করল। বারবার এইভাবে সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া হবে এবং তখন তাদেরই আফশোস করতে হবে।”
এবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হতেই প্রশ্ন উঠছে যে হরমুজ প্রণালী কি ফের একবার বন্ধ করে দেবে ইরান? তাহলে কি আমেরিকাও শান্তি আলোচনার পথে না হেঁটে, সংঘর্ষবিরতি ভেঙে পুরোদমে ইরানের উপরে হামলা করবে?
জানা গিয়েছে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালীতে না ঢোকে বা বেরয়। তবে এরপরও বহু দেশের জাহাজই এমন রুট দিয়ে চলাচল করছে, যা তেহরান স্বীকৃতি দেয়নি। কেপলার ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যে ৪২টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করেছে, তার মধ্যে অর্ধেক জাহাজই ওমানের উপকূল ঘেঁষে বিকল্প রুট ব্যবহার করেছে।