
ওয়াশিংটন: রাতেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। মধ্য প্রাচ্যে বসবাসকারী বা এই মুহূর্তে উপস্থিত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। এরপরই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে তবে কি আমেরিকা শনিবার রাতেই ইরানে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছে? এই জল্পনার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরাট ঘোষণা।
এ দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে ইরানে যে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর এই ঘোষণার পরই নতুন করে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে সম্মতির জল্পনা দানা বাঁধছে।
শনিবার বাহরিন, ইরাক, ইজরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তরফে অনলাইনে সতর্কতা জারি করা হয়। সেই দেশে বসবাসকারী বা বর্তমানে উপস্থিত মার্কিন নাগরিকদের অতি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। যে কোনও পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।
তবে আপাতত সামান্য স্বস্তি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানালেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তির কথাবার্তা এগোচ্ছে। যদি এই চুক্তি হয়, তাতে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার শর্ত থাকবে। একইসঙ্গে ইরানের পরমাণু শক্তি নিরস্ত্রীকরণও করা হবে।
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল, ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “ইরান ও মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশ অনুরোধ করেছে যে আমরা যেন হামলা না করি।” তিনি আরও দাবি করেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রার সামরিক শক্তি, প্রস্তুতি ও ক্ষমতা নিয়ে সম্পূর্ণ তৈরি ছিল আমেরিকা, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি। তা সত্ত্বেও ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ অনুরোধ করেছে যে আমরা যেন হামলা থেকে বিরত থাকি। কারণ একটি সম্ভাব্য চুক্তির মূল বিষয়গুলিতে উভয় পক্ষই নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়া, পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থেকে তৈরি হওয়া হুমকির অবসান”।
ট্রাম্প আরও লেখেন, “এই অনুরোধের ভিত্তিতে, বিশ্বের বৃহত্তর স্বার্থে এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন সম্ভব করতে আমি প্রস্তাবিত সামরিক হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।”
ইজরায়েল, যারা গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার প্রথম হামলায় মদত দিয়েছিল, তারাও এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে আমেরিকা বেশ কয়েকদিন চুপ থাকার পর চলতি সপ্তাহের শেষভাগে ইরান ও মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলির উপরে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছে। আমেরিকা ও ইজরায়েল- যৌথভাবে ইরানের পরমাণু ঘাঁটি, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রের মতো জায়গায় হামলা করার পরিকল্পনা করছে। ইরান যাতে এবার আত্মসমর্পণ করে, সেই পরিকল্পনাতেই বিরাট বড় মাপের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।