
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan) কি আর বেঁচে নেই? এক প্রখ্যাত সাংবাদিকের দাবি ঘিরে ফের একবার ছড়াল চাঞ্চল্য। কয়েক মাস আগেও একবার শোরগোল পড়ে গিয়েছিল যে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, যিনি বর্তমানে জেল বন্দি রয়েছেন দুর্নীতি মামলায়, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরে অবশ্য সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এবার ফের একবার জল্পনা তৈরি হল ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে।
তোষাখানা দুর্নীতি মামলা সহ একাধিক অভিযোগে জেলবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলই কার্যত তাঁর স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গিয়েছে। আদৌ তিনি আর কখনও জেল থেকে বের হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর মধ্যেই হঠাৎ ইমরান খানের মৃত্যুর জল্পনা। তাও আবার যে সে ব্যক্তি এই দাবি করেননি, প্রখ্যাত পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাদ সইদ খান, যিনি এমি (Emmy-nominated)-র জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন ওই পাক সাংবাদিক। তিনি দাবি করেছেন যে তিনটি শীর্ষ মিলিটারি সূত্র থেকে খবর পেয়েছেন যে ইমরান খানের জেলে মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দাবি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাকিস্তানের পরিস্থিতি এমনিই উত্তপ্ত। মঙ্গলবারই ইমরান খানের পরিবার ও তাঁর রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (Pakistan Tehreek-e-Insaf) কর্মীরা দাবি করছে যে ইমরান খানের সঙ্গে জেলে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এরপরই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে বিতর্ক তৈরি হতেই ওই পাক সাংবাদিক নিজের দাবি থেকে সরে আসেন। তিনি ইউটিউব ভিডিয়োয় দাবি করেন যে তিনজন জিএইচকিউ(GHQ)-র শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তাঁদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওই আধিকারিকদের কেউই নিজের চোখে ইমরান খানের মৃত্যুর কোনও প্রমাণ দেখেননি। তাঁরা যা জানিয়েছিলেন, তা ছিল আশঙ্কা ও উদ্বেগ, কোনও নিশ্চিত খবর নয়।
এদিকে, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কার মেঘ তৈরি হওয়ার পরই পিটিআই নেতা-কর্মীরা এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ২০ লক্ষ মানুষ প্রস্তুত রয়েছেন রাস্তায় নামতে। ইমরান খানের কোনও কিছু হলে জনগণের রোষ সামলাতে পারবেন না পাক সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর। পিটিআই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে লং মার্চের ঘোষণা করেছে।
পাক সরকারের উপরে নানা দিক থেকেই চাপ তৈরি হচ্ছে ইমরান খানকে জেলবন্দি করে রাখা এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করা নিয়ে এত রহস্যের জন্য। মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও-র কাছে ১৩ জন মার্কিন আইনপ্রণেতা চিঠি লিখেছেন ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে আটকে রাখার বিষয়টি সরাসরি ইসলামাবাদের কাছে তোলার জন্য।