
লন্ডন: ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় বদল। তীব্র চাপের মুখে অবশেষে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer)। লেবার পার্টির প্রধানের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন। সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন ভাষণে স্টারমার জানান, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর উত্তরসূরিকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছেন।
স্টারমার বলেন, “আমার দল এখন এই প্রশ্ন করছে যে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সেরা ব্যক্তি? আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং তা সসম্মানে গ্রহণ করছি। আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখেই নিয়েছি। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।” তিনি জানান, সোমবার সকালে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছেন।
স্টারমারের কথায়, “আমি লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ করেছি। যাতে সেপ্টেম্বর মাসে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচিত হয়। আমি আমার উত্তরসূরিকে সম্পূর্ণ সমর্থন করব। আমি বিশ্বাস করি, তিনি আরও শক্তিশালী ব্রিটেনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং লেবার পার্টিকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন।”
ভাষণের শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্টারমার। তিনি বলেন, “সুসময় হোক বা দুঃসময়, ভিক্টোরিয়া সবসময় আমার পাশে থেকেছে। দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার পর আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে আরও বেশি সময় দিতে চাই। সেটা হল একজন ভালো স্বামী ও একজন ভালো বাবা হওয়া।”
জানা গিয়েছে, লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হবে এবং ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তা শেষ হবে। প্রয়োজনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচিত করা যায়।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র বার্নহ্যাম প্রকাশ্যেই দলের নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। সেই রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই অবশেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন কিয়ার স্টারমার।