
ঢাকা: ইউনূসের বাংলাদেশে বইছে বদলের হাওয়া। তবে এই হাওয়া তা যে কতটা পরিশুদ্ধ সেই নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করছে একাংশ। সন্ত্রাস, হিংসা, অশান্তি, বাংলাদেশের ছবি এখন এরকমই। সে দেশের অন্দরে পরিস্থিতি যে কতটা অস্থির তা ভালই টের পাচ্ছে বিশ্ববাসী।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ইউনূসের কাঁধে গিয়ে দায়িত্ব পড়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার। সেই দায়িত্বভার নিয়েই তদারকি সরকার গঠন করেন তিনি। আর নতুন সরকার তৈরির পর থেকেই একদিকে বাড়ছে সন্ত্রাসবাদ-মৌলবাদের মতো ঘটনা। অন্যদিকে চুপিসারেই দেশের অতীত মুছছে প্রশাসন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুজিব ও তাঁর পরিবারের নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্য়েই দেশের একাধিক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুজিব পরিবারের নাম মুছে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল তারা। তাদের মতে, ওই সময়কাল স্বৈরাচারিত্বের। তাই সেই সমস্ত ইতিহাস মুছে দিতে চায় প্রশাসন।
এবার ইউনূসের নিশানায় ভারতীয় মনীষীরাও। শুধুই মুজিব কিংবা হাসিনা নয়। ভারতীয় বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, সত্য়েন্দ্র আচার্য, মানবতাবাদী লালনের নামও মুছে ফেলল তাঁরা। বৃহস্পতিবার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম মাহবুবুর রহমান একটি নোটিস জারি করে বিশ্ববিদ্য়ালয়ের মোট ১৬টি প্রশাসনিক ভবনের নাম বদলে দেন। এই ১৬টি ভবনে মধ্যে বেশ কিছু ভবনের নাম ছিল ভারতীয় মনীষীদের নামে নামাঙ্কিত। আর সেইগুলিও বদলে দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নোটিসে জানানো হয়, শনিবার একটি সিন্ডিকেট বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ১৯টি প্রশাসনিক ভবনের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৯টি ভবনের নাম বদলের ভাবনা এলেও, তিনটি নামবদল এখনও হয়নি।
মুছে গেল কাদের কাদের নাম?
বদলে দেওয়া হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামাঙ্কিত একটি ভবন। এছাড়াও মুছে দেওয়া হল সত্যেন্দ্র নাথ বসুর নাম। বদলে দেওয়া হল জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবন। বদলে দেওয়া হবে কবি জীবনানন্দ দাস অ্যাকাডেমিক ভবনের নামও। হারিয়ে গেল প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের নামাঙ্কিত একটি ভবনও।