
কুয়ালা লুম্পুর: ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর (Anwar Ibrahim)কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল কিশোর কুমারের গান। তবে, ভারতীয় সঙ্গীত বিশেষ করে বলিউড গানের (Bollwood Song) প্রতি যে তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে, তা তাঁর সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। ব্রিকস সম্মেলন শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। নিজের দেশে ফিরে গিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সম্প্রতি, ব্রিকস সম্মেলনে ক্যামেরাবন্দী বিভিন্ন মুহূর্ত ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন তিনি। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে জুড়ে দিয়েছেন বলিউডের বিভিন্ন সিনেমার গান।
সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে কোথাও দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি, কোথাও আবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি দিয়েছেম মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আর প্রত্যেক ছবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলাদা আলাদ বলিউড গান বেছে নিয়েছেন।
BRICS সম্মেলনে ভারত মণ্ডপমে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন আনোয়ার। ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা যায় শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির বিখ্যাত গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’।
মোদীর সঙ্গে আরও একটি ছবি পোস্ট করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁর পছন্দ ছিল শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও করিশ্মা কাপুর অভিনীত ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ছবির টাইটেল ট্র্যাক ‘দিল তো পাগল হ্যায়’।
ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্য রাখার ছবি পোস্ট করার সময়ও বলিউডের গানকেই বেছে নেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সেখানে ব্যবহার করেন ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া সলমন খান, রানি মুখোপাধ্যায় ও প্রীতি জিন্টা অভিনীত ‘হর দিল জো প্যায়ার করেগা’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘হর দিল জো প্যায়ার করেগা’।
ভারত ছাড়ার মুহূর্তের ভিডিয়োতে আবার শোনা যায় ‘লক্ষ্য’ ছবির গান ‘কাঁধো সে মিলতে হ্যায় কাঁধে’। একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা রয়েছে এই গানে। ফলে ব্রিকস-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চের প্রেক্ষাপটে গানটির নির্বাচনও নজর কেড়েছে।
ভারত সফরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন তিনি। সেখানে ব্যবহার করেন শাহরুখ খান ও প্রীতি জিন্টা অভিনীত ‘বীর-জারা’ ছবির ‘অ্যায়সা দেশ হ্যায় মেরা’।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের ছবিতেও বলিউড গানের মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দেন আনোয়ার। ১৯৫৭ সালের ‘নয়া দৌড়’ ছবির ‘সাথী হাত বাড়ানা’ গানটি ব্যবহার করেন তিনি। হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই এই গানের মূল কথা। ফলে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের ছবিতে গানটির ব্যবহার কূটনৈতিক বার্তার সঙ্গেও মিলে গিয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিমের ছবিও নজর কেড়েছে। সেই ছবির সঙ্গে তিনি ব্যবহার করেন আমির খান অভিনীত ২০০১ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘লগান’-এর ‘চলে চলো’। ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিলেন তিনি।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বে দু’টি বড় সংঘাত চলছে এবং বিভিন্ন দেশের অবস্থান ও স্বার্থের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। তারপরও BRICS-এর সদস্যরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পেরেছেন।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলির অন্যতম ছিল পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। তা সত্ত্বেও এমন একটি বিবৃতিতে সম্মতি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা সব পক্ষই মেনে নিয়েছে। সেক্ষেত্রে নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলন সফল বলা যেতে পারে।