
মালে: ঘরের মাঠে প্রবল চাপে মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজ্জু। ভারতের মত মিত্র দেশগুলির সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সংসদে বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষিতে, মুইজ্জুর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনতে চলেছে সেই দেশের প্রধান বিরোধী দল, মলদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এমডিপি। কোনও রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে এই প্রস্তাব আনা হয়। পাস হলে, রাষ্ট্রপতির পদ খোয়াতে হবে মুইজ্জুকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মুইজ্জু জয় পেলেও, মলদ্বীর সংসদে এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সোলিহর দল এমডিপি-র। মহম্মদ মুইজ্জুর বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব আনার জন্য তারা যথেষ্ট সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রস্তাব আনার বিষয়ে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে সেই দেশের ডেমোক্র্যাটরাও।
সূত্রের খবর, এমডিপি এবং ডেমোক্র্যাট দুই দলের প্রতিনিধি মিলিয়ে মোট ৩৪ জন সাংসদ রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবকে সমর্থন করছেন। রবিবার, মলদ্বীপের নতুন মন্ত্রীদের সংসদীয় অনুমোদন প্রদান প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় মলদ্বীপ সংসদে। চার মন্ত্রীকে অনুমোদন না দেওয়ার প্রেক্ষিতে, সংসদের মধ্য়ে তুমুল হট্টগোল বাধায় মুইজ্জুর দল, পিএনসি-র সাংসদরা। এমডিপি সদস্যদের লাথি-ঘুষি-চড়-থাপ্পড় মারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মলদ্বীপ সংসদের অন্দরের সেই নাটকীয় দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। এমডিপি সাংসদ ইসা এবং পিএনসি সাংসদ আবদুল্লাহ শাহীম আবদুল হাকিমের মধ্যে ভয়ঙ্কর মারামারি হতে দেখা যায়। কয়েকজন সাংসদ গুরুতর আহত হন। তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই প্রেক্ষিতে, এমডিপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মহম্মদ ঘাসান মামুনের অনুমোদনও, সংসদে অস্বীকার করা হবে। পিএনসি সাংসদরা য়েভাবে সংসদীয় কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এমডিপি মুখপাত্র। শুধু তাই নয়, দেশের বিদেশ নীতি থেকে যেভাবে ভারতকে ছেঁটে ফেলে চিনকে জায়গা দেওয়া হচ্ছে, তারও প্রতিবাদ জানিয়েছে এমডিপি। এমডিপি এবং ডেমোক্র্যাটরা এক একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, বিদেশ নীতির এই পরিবর্তন দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর’। ভারতের নাম না করে তারা বলেছে, “দেশের উন্নয়নে যারা সাহায্য করছিল, বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধু যারা, তাদেরকে বিদেশনীতি থেকে বাদ দেওয়া দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।” ভারত মহাসাগরে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা মালদ্বীপের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে, সংসদের অন্দরে সাসংদদের এই সংঘর্ষ এবং মুইজ্জুর বিরুদ্ধে সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব আনার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে, মলদ্বীপ সংসদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভারী সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামূলক ঢাল নিয়ে সংসদ চত্বরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে পুলিশ কর্মীদের।