Lahore Street Name Change: পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই, লাহোরের রাস্তার নামবদল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মরিয়ম সরকারের!

Pakistan Government: তবে সরকারি ভাবে না হোক, বেসরকারি ভাবে আজও মানুষের মুখে মুখে ঘরে পুরোনো নাম। লাহোরের স্থানীয় মানুষ আজও এই জায়গাগুলোকে দেশভাগের আগের নামেই ডাকেন। প্রশাসন নাম বদলে দিলেও সাধারণ মানুষ আজও এই জায়গাগুলো কৃষ্ণনগর বা লক্ষ্মী চক বলেই চেনে।

Lahore Street Name Change: পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই, লাহোরের রাস্তার নামবদল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মরিয়ম সরকারের!
Maryam Nawaz Govt Softens Stance on Lahore Street Renaming.Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

May 28, 2026 | 7:11 PM

লাহোর : ফ্যাসাদে পড়া একেই বলে। দিন কয়েক আগেই পাঞ্জাব প্রদেশ সরকার জানিয়েছিল, পাকিস্তানের লাহোরের ঐতিহাসিক রাস্তাগুলির নাম বদল করা হবে। ব্রিটিশ আমলে জায়গাগুলির যে যে নাম ছিল, সেই নামেই নামকরণ হবে লাহোরের ঐতিহাসিক রাস্তা, চক ও এলাকাগুলোর। কিন্তু ওই যে, দেশের নাম পাকিস্তান! ফলে কট্টরপন্থীদের রোষের মুখে পড়েছে মরিয়ম নওয়াজ সরকার। এবং এই রোষের ফলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত সরকার।

কট্টরপন্থীরা দাবি জানিয়েছে, রাস্তার নাম বদলানো করা যাবে না। এই পুরোনো নামগুলিকে ফিরিয়ে আনা মানে একটি মুসলিম প্রধান দেশে ‘হিন্দু ও শিখ ধর্মের পরিচয়’ পুনরুজ্জীবিত করা। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল, কয়েক সপ্তাহ আগেই পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এবং তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিজে বৈঠক করে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল জানা গিয়েছে , তীব্র বিতর্কের জেরে সরকার এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে চলেছে।

কী কী নাম বদলের কথা ছিল?

১ – ইসলামপুরের নাম বদলে আবার আগের ‘কৃষ্ণ নগর’ করা।

২ – ‘মৌলানা জাফর আলি খান চক’-এর নাম বদলে বিখ্যাত ‘লক্ষ্মী চক’ রাখা।

৩ – ‘মুস্তফাবাদ’ পরিবর্তন করে আগের ‘ধরমপুরা’ করা।

৪ – ‘হামিদ নিজামী রোড’-এর নাম বদলে ‘টেম্পল স্ট্রিট’ করা।

৫ – ‘বাবরি মসজিদ চক’-বদলে ‘জৈন মন্দির রোড’ করা।

ব্যাপক বিতর্ক হতেই লাহোরের ডেপুটি কমিশনার ক্যাপ্টেন মহম্মদ আলি ইজাজ দাবি করেছেন, নাম বদলের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বিষয়টি কেবল আলোচনা স্বরে রয়েছে। অথচ ২০ মার্চ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রেস রিলিজ জারি করে বলা হয়েছিল যে, নওয়াজ শরিফ ও মরিয়ম নওয়াজের উপস্থিতিতে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পাস হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি ‘ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প’-এর অধীনে এই নাম পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল।

তবে সরকারি ভাবে না হোক, বেসরকারি ভাবে আজও মানুষের মুখে মুখে ঘরে পুরোনো নাম। লাহোরের স্থানীয় মানুষ আজও এই জায়গাগুলোকে দেশভাগের আগের নামেই ডাকেন। লাহোর হেরিটেজ অথরিটির কর্মকর্তা কামরান লশারি জানিয়েছেন,”প্রশাসন নাম বদলে দিলেও সাধারণ মানুষ আজও এই জায়গাগুলো কৃষ্ণনগর বা লক্ষ্মী চক বলেই চেনে। এমনকি অনেক সরকারি নথিতে এখনও পুরোনো নামই ব্যবহার করা হয়।” তবে বিশেষজ্ঞরা এই নাম ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করলেও, কট্টরপন্থী মৌলবাদী ও সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে ইতিহাসকে আড়ালে রেখে দিল পাকিস্তান সরকার।

Follow Us