
নিউইয়র্ক: বিদেশ সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। আমেরিকা (America), কানাডা (Cannada) ও ইংল্যান্ডে (England) যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সফরের অংশ হিসেবেই সুদূর আমেরিকায় রাখীবন্ধন উৎসব (America Raksha Bandhan) পালন করবেন মোহন ভাগবত। জানা গিয়েছে, আগামী ২৯ অগস্ট নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানের। মূলত AHEAD Forum (আমেরিকান হিন্দুজ় ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ)-এর উদ্যোগে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শতাধিক সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত হবে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’।
রাখীবন্ধন উৎসব উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র উৎসব উদযাপন নয়, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং বিশ্বশান্তির বার্তাও তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি থাকবে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে RSS প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে আমেরিকায় সামাজিক সংহতি, বহুত্ববাদ এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মতো বিষয়গুলি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’-এর মাধ্যমে আমেরিকান হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক ভূমিকা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, জনসেবা, সমাজসেবা ও নাগরিক ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের মূল ভাবনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ অর্থাৎ ‘সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার’-এর ধারণা। আয়োজকদের মতে, পারস্পরিক আলোচনা, সম্মান, দায়িত্ববোধ এবং সেবার মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলায় এই দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাখীবন্ধন উৎসব সাধারণত ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব হিসেবে পালিত হয়। তবে এই অনুষ্ঠানে সেই ধারণাকে আরও বিস্তৃত করে একে সমাজ, দেশ, প্রকৃতি এবং সৃষ্টির প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমাজের নানা ক্ষেত্রের মানুষ অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যুব নেতৃত্ব, প্রাক্তন সেনাকর্মী, ধর্মীয় নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়াও বিভিন্ন মন্দির, বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবামূলক সংস্থা, ভাষাভিত্তিক ও আঞ্চলিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং আন্তঃধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।