Anthropic Mythos: এই AI বাজারে এলেই সাইবার দুনিয়ার নেমে আসবে বড় বিপর্যয়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ‘মাইথোস’ নামে একটি এআই মডেল। মার্কিন সংস্থা Anthropic-এর তৈরি এই মডেলকে ঘিরে এখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় জোর আলোচনা চলছে। কারণ, সফটওয়্যারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি মুহূর্তের মধ্যে খুঁজে বের করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে মাইথোসের। ইতিহাসে বহুবার দেখা গিয়েছে, মানুষের তৈরি প্রযুক্তিই পরে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের কাল্পনিক দানব থেকে শুরু করে আইনস্টাইনের তত্ত্বের পরিণতিতে হিরোশিমা-নাগাসাকির পরমাণু বিস্ফোরণ, বিজ্ঞান কখনও কখনও আশীর্বাদ থেকে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সেই কারণেই মাইথোস নিয়েও নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রযুক্তি মহলে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ‘মাইথোস’ নামে একটি এআই মডেল। মার্কিন সংস্থা Anthropic-এর তৈরি এই মডেলকে ঘিরে এখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় জোর আলোচনা চলছে। কারণ, সফটওয়্যারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি মুহূর্তের মধ্যে খুঁজে বের করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে মাইথোসের। ইতিহাসে বহুবার দেখা গিয়েছে, মানুষের তৈরি প্রযুক্তিই পরে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের কাল্পনিক দানব থেকে শুরু করে আইনস্টাইনের তত্ত্বের পরিণতিতে হিরোশিমা-নাগাসাকির পরমাণু বিস্ফোরণ, বিজ্ঞান কখনও কখনও আশীর্বাদ থেকে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সেই কারণেই মাইথোস নিয়েও নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রযুক্তি মহলে।
অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, মাইথোস তৈরি করার সময় তার এই বিশেষ ক্ষমতার কথা জানা ছিল না। পরে গবেষণাগারে পরীক্ষা করতে গিয়ে সংস্থার ইঞ্জিনিয়াররা লক্ষ্য করেন, যত জটিল সফটওয়্যারই হোক না কেন, মাইথোস খুব দ্রুত তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি চিহ্নিত করছে। একাধিক সফটওয়্যারের উপর পরীক্ষা চালানোর পর সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট ডেভেলপারদের জানানো হয়। তখন দেখা যায়, সফটওয়্যার নির্মাতারাও অনেক ক্ষেত্রেই সেই ত্রুটির কথা জানতেন না। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে নানা সাইবার নিরাপত্তার গলদ নিয়েই বাজারে চলছিল বহু সফটওয়্যার।
পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো হলে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত নিরাপত্তা সফটওয়্যারগুলিতেও একাধিক দুর্বলতা চিহ্নিত করতে শুরু করে মাইথোস। এরপরই এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেয় অ্যানথ্রোপিক। সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছর মাইথোস প্রকল্পে আরও ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে ‘গ্লাসউইং’ নামে নতুন একটি প্রকল্পও শুরু করেছে সংস্থাটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের একাধিক বড় সংস্থাকে পরীক্ষামূলকভাবে মাইথোস ব্যবহার করে নিজেদের সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে Apple, Google, Microsoft-এর মতো প্রযুক্তি সংস্থা। পাশাপাশি রয়েছে Amazon, JPMorgan Chase, Goldman Sachs এবং Bank of America-এর মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানও।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যে AI মুহূর্তে সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি ধরতে পারে, সেই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সার্ভার হ্যাক করতেও ব্যবহার হতে পারে। সাধারণ মোবাইল বা কম্পিউটার তো বটেই, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা কিংবা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সার্ভারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, কোনওভাবে যদি এই প্রযুক্তি হ্যাকারদের হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে সাইবার দুনিয়ায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তখন কোনও ডিজিটাল ব্যবস্থাই আর পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে না।
এই কারণেই আপাতত মাইথোসকে খোলা বাজারে আনছে না অ্যানথ্রোপিক। হাতে গোনা কয়েকটি সংস্থাকেই সীমিত পরিসরে এটি ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বাজারে ছড়িয়ে পড়বে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। একই ধরনের অন্য AIমডেলও সামনে আসতে পারে। এমনকি অ্যানথ্রোপিকের সার্ভারে সাইবার হামলা চালিয়ে প্রযুক্তি চুরির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে সতর্ক হয়েছে ভারত সরকারও। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) ব্যাঙ্ক, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভারতের কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাইথোস ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্যও কোনও ট্রায়াল চালানো যাবে না। সরকারের আশঙ্কা, নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে গিয়েই উল্টে দেশের সাইবার নিরাপত্তার দরজা খুলে যেতে পারে। অর্থাৎ, চোর ধরতে গিয়ে উল্টে চোরকেই ঘরে ডেকে আনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সেই কারণেই আপাতত ভারতে মাইথোস নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রযুক্তি মহলের মতে, এই বিতর্ক এখানেই থামছে না। আগামী দিনে এআই ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বড় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।