
কাঠমাণ্ডু: নেপালে (Nepal) মৃত্যুমিছিল। হড়পা বানের (Flash Flood) জেরে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই ৪৭৫ পার করেছে মৃতের সংখ্যা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৯৭৭ জন নিখোঁজ। উদ্ধার করা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে। এই কঠিন সময়ে নেপালের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছে বহু দেশ। সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারতও। তবে সকলের সাহায্যই ফিরিয়ে দিচ্ছে নেপাল সরকার। তাদের বক্তব্য, নিজেদের দেশের উদ্ধারকারী দলই উদ্ধারকাজ চালাতে পারবে। অন্য কোনও দেশের উদ্ধারকাজে সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
গত বুধবার, ২৬ অগস্ট নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে তিব্বতের দিকে একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়েই বিপর্যয় ডেকে আনে। কৃত্রিম হ্রদ ফেটে হড়পা বান নেমে আসে ভোতেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ ধুয়ে যায়। একদিন আগেও যেখানে হোটেল-বাড়ি ছিল নদীর পাশে, সেই সমস্ত জায়গাই এখন কাদামাটির নীচে চলে গিয়েছে।
কাঠমাণ্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত, চিন, আমেরিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সহ একাধিক দেশ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও অনুমতি চেয়েছে তাদের স্পেশালাইজড উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য। তবে নেপাল সরকার জানিয়েছে, তাদের পুলিশ, সেনাবাহিনী ও দেশের এজেন্সিই উদ্ধারকাজ চালাবে। সমস্ত দেশেরই সাহায্যের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেছেন, “আপাতত আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আমাদের এজেন্সিই আপাতত উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।”
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নেপালের এই সিদ্ধান্তের পিছনে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর অভিজ্ঞতাই মূল কারণ। ২০১৫ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে যখন নেপাল বিপর্যয়, ধ্বংসলীলার মুখে পড়েছিল, তখন বিশ্বের বহু দেশ থেকেই সাহায্য পাঠানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এত সাহায্য এসেছিল এবং এত উদ্ধারকারী দল এসেছিল যে নেপাল প্রশাসনের উপরে সেই কঠিন সময়ে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
সেই কারণেই এবার নেপাল সরকার বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বলেছে আর্থিক সাহায্য পাঠাতে, তাও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক তহবিলে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে, পরবর্তী সময়ে নাগরিকদের পুনর্বাসনের সময় আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য লাগতে পারে।
ভারত এখনও পর্যন্ত ৪৭.৫ টন ইমার্জেন্সি সাপ্লাই পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ওষুধ, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী আছে। ভারতীয় সেনা নেপালে বেইলি ব্রিজ তৈরিতে সাহায্যের প্রস্তাবও দিয়েছে।