
ইসলামাবাদ: চরমে পৌঁছেছে জ্বালানি সঙ্কট। এতটাই সঙ্কট যে আমজনতার জীবনেও তার প্রভাব পড়ছে ব্যাপকভাবে। সরকারের তরফে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে। জনগণ কত টাকা খরচ করতে পারবে, তাও ঠিক করে দিচ্ছে সরকারই। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিয়েবাড়িতে একটি মাত্র খাবার পদেরই ব্যবস্থা করা যাবে। হরেক মেনু রাখা যাবে না।
ভয়ঙ্কর অবস্থা পাকিস্তানে। কার্যত হাহাকার পড়ে গিয়েছে জ্বালানি নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে আর নতুন করে কোনও সরকারি গাড়ি কেনা যাবে না। তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া সরকারি খাতে কোনও জিনিস কেনাও নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি গাড়ির জন্য যে জ্বালানি বরাদ্দ থাকে, তাও ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেনা, রাজস্ব বিভাগ, অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে। আপাতত তিন মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের খরচ ৫ শতাংশ কমাবে। তবে সরকারি কর্মীদের বেতন বা ভাতায় এর কোনও প্রভাব পড়বে না। বাড়িভাড়া, পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচও পাওয়া যাবে।
সরকারি কর্মী ও শীর্ষ আধিকারিক বা প্রতিনিধিদের তিন মাসের জন্য বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মন্ত্রী, পরামর্শদাতা, প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল অ্যাসিস্টেন্ট, সাংসদ ও সরকারি কর্মীরা কোনও দেশে যেতে পারবেন না সরকারি খরচে। তবে স্কলারশিপের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদি বিদেশ সফরের খুব প্রয়োজন হয়, তবে ফার্স্ট ক্লাসের বদলে ইকোনমি ক্লাসে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফতেয়া এখানেই শেষ হয়নি। বিয়েবাড়িতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে একটি মাত্র পদেরই আয়োজন করা যাবে। সমস্ত বাজারহাট রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে। দোকান, বাজার, শপিং মল, মুদি দোকান- সকলকেই এই নির্দেশ মানতে হবে। এমনকী বিয়েবাড়িও রাত ১০টার মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে হবে। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও খাবারের দোকানগুলি রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। তবে ডেলিভারি ও টেক-অ্যাওয়ের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।