
অকল্যান্ড: ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। তবে, ব্যক্তি মোদীর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের (India-New Zealand) সম্পর্ক অনেকদিনের। সেই পুরনো সম্পর্ককেই স্মরণ করলেন তিনি। তিন দেশ সফরের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবারই অকল্যাণ্ডে পৌঁছন তিনি। তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (New Zealand PM) ক্রিস্টোফার লাক্সন। এরপর সেখানেই একটি অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতি বিশেষ বার্তা দিলেন মোদী। মনে করলেন পুরনো বন্ধুর কথা। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ভারত-নিউজ়িল্যান্ড সম্পর্কের কথা।
অকল্যান্ডের স্পার্ক অ্যারেনাতে ‘কিয়া ওরা মোদী’-র আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার প্রবাসী ভারতীয় উপস্থিত ছিলেন। মোদী মঞ্চে উঠতেই ‘মোদী, মোদী’ চিৎকারে ফেটে পড়ে গোটা সভা। মোদী প্রথমে হিন্দিতে নমস্তে, তারপর মাওরি ভাষায় ‘কিয়া ওরা’ অর্থাৎ শুভেচ্ছা জানান। ভাষণের শুরুতেই মোদী বলেন, “৪০ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এসেছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর শুভেচ্ছা নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি।”
মোদী জানান, যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, যখন তাঁকে কেউ চিনত না, যখন সরকারের অংশ ছিলেন না, সেইসময় নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন মোদী। তাও ২৫-৩০ বছর আগের কথা। সেই সময় নিউজিল্যান্ডের এক বন্ধু তাঁকে একটি মাফলার,একটি টুপি ও একজোড়া গ্লাভস উপহার দিয়েছিলেন। মোদী বলেন, “আজ আমি সেই মাফলারটাই পরে এসেছি। এত বছর ধরে এটি আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি। এই মাফলার আমার কাছে নিউজিল্যান্ডের মানুষের ভালোবাসা ও আন্তরিকতার স্মৃতি বহন করে।”
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বন্ধুত্বের সম্পর্ককেও তুলে ধরেন। বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক স্মৃতি, বন্ধুত্ব, মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক অঙ্গীকারের উপর দাঁড়িয়ে।” এরপরই নিউজিল্যান্ডের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ‘ওয়াকা’-র উল্লেখ করে বলেন, “‘ওয়াকা’ শুধু একটি নৌকা নয়, এটি একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রতীক। আজ ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ‘ওয়াকা’ নতুন এক যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত। সামনে আমাদের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে।”
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের প্রশংসা করে মোদী বলেন, ভারতীয়দের মধ্যে মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাক্সন ও বিরোধী নেতা ক্রিস হিপকিন্সের ‘মস্ত কালান্দার’ গানে নাচের ভিডিওর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মোদীর কথায়,”এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে লাক্সন ভারতীয়দের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন।”
নিউজিল্যান্ডে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নিখিল রবিশঙ্কর এয়ার নিউজিল্যান্ডের সিইও হয়েছেন, আনন্দ সত্যনন্দ গভর্নর-জেনারেলের পদ অলঙ্কৃত করেছেন। পাশাপাশি রচিন রবীন্দ্র, ঈশ সোধি ও এজাজ প্যাটেল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে নিজেদের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন।
মোদী আরও বলেন, “নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন রাস্তা ও এলাকার নামেও ভারতীয় শহরের ছাপ রয়েছে। বম্বে হিলস, কলকাতা স্ট্রিট, দিল্লি ক্রিসেন্ট, অমৃতসর স্ট্রিট, কোরোম্যান্ডেলের মতো নাম দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতীক।”
প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,”নিউজিল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে যখনই দেখা হয়, তাঁরা আপনাদের প্রশংসা করেন। প্রশংসা আপনাদের হয়, কিন্তু মাথা উঁচু হয় আমার। আপনারাই ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সম্পর্ককে সবচেয়ে শক্তিশালী করে তুলেছে।”