
নয়া দিল্লি ও জাকার্তা: তিন দেশের সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। প্রথম গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া। ইতিমধ্যেই জাকার্তায় পৌঁছে গিয়েছেন মোদী। এরপর অস্ট্রেলিয়া (Australia) ও নিউজিল্যান্ডে (New Zealand) যাবেন তিনি। তবে, মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফরকে (Modi Indonesia Visit) কেন্দ্র করে জোর চর্চা চলছে সব মহলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
সোমবারই জাকার্তায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমানবন্দরে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, মোদীর এই সফরে প্রতিরক্ষা, কৌশলগত সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বড় চুক্তি সই হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সামুদ্রিক পরিকাঠামো এবং খনিজ সম্পদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের দাবি, ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইন্দোনেশিয়া। অপারেশন সিঁদুরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের পরই জাকার্তার আগ্রহ বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া, ব্রহ্মোসের সংখ্যা বাড়াতে চায় ইন্দোনেশিয়া। সেই লক্ষ্যে আরও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি সরবরাহ করতে পারে ভারত।
প্রতিরক্ষা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ মজবুত করতে ইন্দোনেশিয়ায় ইস্পাত,নিকেল উৎপাদনে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। দুই দেশ যৌথভাবে সাবাং বন্দর উন্নয়নের দিকেও এগোতে পারে। মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই বন্দর ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্প থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে। ফলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলগত দিক থেকেও এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তিনদিনের ইন্দোনেশিয়া সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে এটি তাঁর চতুর্থ ইন্দোনেশিয়া সফর। ২০১৮ সালে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক উন্নীত হওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম সফর। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রগুলিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।