
রিয়াধ: ফের উত্তপ্ত সৌদি আরব। শনিবার ভোরে রাজধানী রিয়াধ লক্ষ্য করে হামলা হুথিদের। একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি সৌদি আরবের। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়।
শুধু রিয়াধ নয়, দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি সৌদি প্রশাসনের। বীশা, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু এলাকায় সাধারণ মানুষ এবং অসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই হামলাগুলিও রুখে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সৌদির হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। সংগঠনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তারা দুটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রথম অভিযানে রিয়াধের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকাকে লক্ষ্য করা হয়। দ্বিতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল ইয়ানবুতে থাকা সৌদি তেল সংস্থা আরামকোর পরিকাঠামো।
#BREAKİNG #YEMEN #Riyadh #SaudiArabia
🇾🇪⚡🇸🇦 Yemeni ballistic missiles reportedly struck fuel tanks at Riyadh International Airport pic.twitter.com/sPM1p9r82f
— Intelligence FRONT (@intelligencefnt) September 19, 2026
এর আগে রাতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ রিয়াধে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভিতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সতর্কতার কয়েক ঘণ্টা পরই, ভোররাতে রিয়াধের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এএফপির সাংবাদিকরাও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
🇸🇦 Riyadh airport in Saudi Arabia moments ago, after being hit by a Houthi missile attack. pic.twitter.com/uXypVBmoaX
— SilencedSirs◼️ (@SilentlySirs) September 19, 2026
রিয়াধের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রথমে সতর্কবার্তা আসে। এর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণের শব্দে তাঁর বাড়ির জানলা কেঁপে ওঠে। আচমকা এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধ ঘণ্টা পর সৌদি সিভিল ডিফেন্স বিমান হামলার সতর্কতা তুলে নেয়।
হামলার আশঙ্কার প্রভাব পড়েছে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটর্যাডার২৪ (FlightRadar24) কিছু সময়ের জন্য বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামায় বড় সমস্যা হয়েছিল বলে জানায়। পরে অবশ্য ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে বিমান চলাচল।
এদিকে, আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলিও শনিবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ফের তীব্র হওয়ার পর এই প্রথম রিয়াধকে সরাসরি হামলার হুমকির মুখে পড়তে হল। চলতি মাসে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য হুথিদের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
সৌদি আরবও হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে সেই হামলা হুথিদের পুরোপুরি থামাতে পারেনি বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যেই গত বুধবার মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে হুথিদের বিরুদ্ধে। সৌদি আরব ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিযোগ করলেও, হুথিরা সেই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, এটি সৌদির ভিত্তিহীন অভিযোগ। হুথিদের দাবি, চলতি মাসে তাদের অভিযানের পর সৌদি আরব প্রতিদিনই পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরব আমেরিকার কাছে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সেই অনুরোধ নাকি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ফলে রিয়াধকে লক্ষ্য করে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা এবং তার জবাবে সৌদির পাল্টা সামরিক অভিযান—এই সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।