
লোহার খাঁচার ভিতরে বক্সিং রিং। ঘিরে হাজার হাজার মানুষ। প্রত্যেকে প্রচন্ড উৎসাহী ডুয়েল দেখতে। কে কাকে শেষ পর্যন্ত মাত করে, দেখতে সন্ধ্যা থেকেই ভিড় দক্ষিণ চিনের গুয়াংডং প্রদেশের নানশান কালচারাল অ্যান্ড স্পোর্টস সেন্টারে। প্রতিপক্ষ দুজনে অবশ্য রক্তমাংসের মানুষ নয়, ধাতু দিয়ে তৈরি রোবট। বিশ্বের প্রথম ফ্রি-হিউম্যানয়েড রোবট ফাইটিং দেখতে প্রত্যেকে মুখিয়ে। সাদা রঙের AI রোবট- হোয়াইট ঈগল। প্রতিপক্ষ কালো রঙের রোবট – ম্যাটাডর। আল্টিমেট রোবট নক আউট লেজেন্ড টুর্নামেন্টে ফ্রি-স্টাইল কমব্যাট। দুটি রোবট-ই তৈরি করেছে চিনা সংস্থা শেনজেন রোবোটিক্সের ফার্ম ইঞ্জিন AI. গ্লোবাই টাইমসে ফলাও করে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ৩২টি টিমের প্রত্যেকের রোবটই এই একই সংস্থার তৈরি। প্রত্যেকটিই ইঞ্জিন AI -এর ফুল সাইজ রোবট। মানে উচ্চতা ও দেখতে প্রায় মানুষেরই মতো। রোবটের লড়াই শুরু হতেই হাততালিতে উৎসাহে ফেটে পড়েন দর্শকরা। বিশ্বের প্রথম রোবট লড়াই বলে কথা।
এই লড়াই শুরুর মুহূর্ত যতটা নাটকীয়, লড়াই চলাকালীনও তেমনই হিংস্র মুহূর্তও তৈরি হল। মেশিন বনাম মেশিন লড়াই হচ্ছে বলে একে অপরকে জায়গা ছেড়ে দেবে, তেমনটা মোটেও নয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ন্ত্রিত হোয়াইট ঈগল রোবট শেষ পর্যন্ত এক তীব্র ঘুষিতে প্রতিপক্ষের মুন্ডু ধড় থেকে আলাদা করে ম্যাচ জিতে যায়। তার আগে অবশ্যই একে অপরকে পরপর পাঞ্চ-ঘুষিতে কাত করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে দুই রোবটই। T ৮০০ মডেলের রোবটগুলি কতটা টেকসই সেটাও এই সুযোগে দর্শকদের দেখিয়ে নিল ইঞ্জিন AI সংস্থা। ১.৭৩ মিটার লম্বা এক একটি রোবট বক্সিংয়ে একেবারে রক্তমাংসের সুপার স্টারদের মতোই দক্ষ। অপারকাট, স্পিনিং কিক, মার খাওয়ার পরেও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা- সবই মানুষের মতো করে শেখানো হয়েছে রোবট গুলিকে। নির্মাতা সংস্থার দাবি, পশ্চার কন্ট্রোল, ডায়নামিক পারসেপশন ও shock-absorbing ক্ষমতা — সবই শেখানো হয়েছে এই যন্ত্র মানবদের। যাতে লড়াইয়ের সময় দর্শকদের এন্টারটেনমেন্টর কোনও অভাব না হয়। ইঞ্জিন AI সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও CEO জাও টং-ইয়ং জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক AI রোবটের লড়াইকে জনপ্রিয় করতেই এই উদ্যোগ। বস্তুত, রোবট টেকনোলজিকে এখন প্রতিদিনের জীবনযাপনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে চিনারা।
আজ চিনে, গাড়ি তৈরির ইন্ডাস্ট্রিতে অটো পার্টস অ্যাসেমবল করছে ‘অ্যাজি-বট’। শ্রমিকদের উপর থেকে চাপ কমাতে ভারী পণ্য বহন করছে রোবট। গাড়ি চালাচ্ছে রোবট। ২৪ ঘণ্টা সজাগ থেকে সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছে হিউম্যানয়েডস। স্টেশন, পার্ক, পাবলিক প্লেসে নজরদারি চালাচ্ছে স্ময়ংক্রিয় রোবট। শুধু কি তাই? বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে চারপেয়ে ছোট রোবট কোয়াড্রা-পেড। এমনকী, হাসপাতালে প্রবীণদের চিকিৎসা করছে, যত্ন নিচ্ছে এক্সো-স্কেলিটন-এর মতো রোবট।