
বিশ্বে নতুন করে আরও একটা যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে? ইরান-আমেরিকা বা রাশিয়া-ইউক্রেন মহাযুদ্ধের মতো এবার আরও একটা ফ্রন্টে মহাযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইউরোপ কি সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে চলেছে? ন্যাটো ও ইউরোপীয় কমিশন চূড়ান্ত সতর্ক করল রাশিয়াকে। জার্মানির লেপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করল ন্যাটো। ব্রিটেনেও চোরাগোপ্তা রুশ হামলার অভিযোগ। ভ্লাদিমির পুতিনকে ন্যাটো সচিবের হুঁশিয়ারি, রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জার্মানি একা নয়, গোটা ইউরোপ ও আমেরিকা একসঙ্গে লড়বে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেশিদিন টিকতে পারবে না ইউরোপ।
ইউরোপে আগ্রাসন বাড়াচ্ছে রাশিয়া। জার্মানির লেপজিগ বিমানবন্দরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অভিযোগ। শুধু তাই নয়, জার্মানি-সহ ইউরোপের নানা জায়গায় রুশ চরেরা পার্সেল বোমা, সাইবার হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। ইলেক্ট্রিসিটি স্টেশন, রেলপথ, এমনকী ড্রোন উৎপাদনের কারখানাতে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। এই দুষ্কৃতীরা কারা? ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট, এই সব হামলার পিছনে রুশ গুপ্তচররা। প্রতিবাদে বন শহরে রুশ দূতাবাস বন্ধ করা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উড়জুলা লেয়ান ও ন্যাটো সেক্রেটারি মার্ক রুটের অভিযোগ, জার্মানির মাটিতে যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস করতে বিস্ফোরক ঠাসা ড্রোন পাঠিয়েছে রাশিয়া। এটা সরাসরি যুদ্ধের প্ররোচনা। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যাটো সদস্যরা একজোট। আমেরিকাও ন্যাটো-র সঙ্গে রয়েছে। রাশিয়াকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
যদিও সদ্য অনুষ্ঠিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বিষেশজ্ঞদের আশঙ্কা, ন্যাটো-র এখন যা অবস্থা, তাতে পুতিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ইউরোপ টিকতে পারবে না। জার্মান পুলিশ ও সরকারি গোয়েন্দাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম রুশ ড্রোন হামলা হয় লেপজিগ বিমানবন্দরে। লেপজিগ শুধু জার্মানির নয়, ন্যাটোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। দ্বিতীয় ড্রোনটি আঘাত করে একটি পণ্যবাহী বিমানে। তৃতীয় ড্রোনটি ভাঙা অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। সেটি বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, যে ডেটোনেটর বা বিস্ফোরক এই ড্রোনে ব্যবহৃত হয়েছে, সেটা রাশিয়া-ই ব্যবহার করে। হামলায় জড়িত সন্দেহে দু’জন গুপ্তচরকেও পাকড়াও করেছে জার্মান পুলিশ। যদিও রুশ বিদেশমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মিথ্যা বদনাম দেওয়া হচ্ছে বলে এই অভিযোগে ক্রেমলিনও, মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত জার্মান কালচারাল সেন্টার বন্ধ করছে।
এই অবস্থায় ন্যাটোর আশঙ্কা-
আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুরু হতে পারে ভেবে ঘর গোছাচ্ছে ইউরোপ-ও। কিন্তু ইউক্রেনকে লাগাতার অস্ত্র সরবরাহ করতে হচ্ছে বলে ন্যাটো দেশগুলি কিছুতেই অস্ত্র উৎপাদনে রাশিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না। ইরান যুদ্ধে সেভাবে পাশে পাননি, এই বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পও ন্যাটো-র প্রতি অসন্তুষ্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইউরোপকে নিজের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে।
ন্যাটো-র ভাঁড়ারে এখন-
এখন রাশিয়া ও ইউরোপের বড় বড় দেশের মধ্যে কার্যত শ্যাডো বা হাইব্রিড ওয়ার চলছে। একদিকে, রাশিয়া ইউরোপ জুড়ে চোরাগোপ্তা হামলা বাড়াচ্ছে। পোল্যান্ডের আকাশসীমা ভেঙে ঢুকে পড়ছে। অন্যদিকে, ইউরোপও মস্কোকে চাপে রাখতে ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলারের অর্থ সাহায্য দিচ্ছে অস্ত্র কিনতে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এখন কার্যত বারুদের স্তূপের মতো।