
কাবুল : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়েছে। এই আবহে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ফের আফগানিস্তানের উপর নতুন করে হামলা চালাল পাক বায়ুসেনা। কাবুল, কান্দাহার, পাক্তিয়া-সহ একাধিক এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তালিবান সরকার জানিয়েছে, জনবসতিপূর্ণ এলকায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ঘর-বাড়ি। হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগানিস্তান।
গোয়েন্দা সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলি কান্দাহার বিমানবন্দর, পাক্তিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। মূলত হামলা চালানো হয়েছে কান্দাহার শহরের তালিবানের আল-বদর কর্পসের সদর দফতরে। জানা গিয়েছে, বিমান হামলার সময় শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, বিমান হামলায় দক্ষিণ আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া, কাবুলের পুল-ই-চরখি, পক্তিয়ার চামকানি জেলার একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে জঙ্গিদের নির্মূল করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে, সাধারণ জনবসতির উপর হামলার যে দাবি করেছে আফগানিস্তান, সেই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি পাকিস্তান সরকার।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলা সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৪ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১৫ জন। মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তানের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানে আরও বড় হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। পাক সেনা যদি হামলা থেকে বিরত না থাকে, তাহলে আফগানিস্তাবে উপর আরও বড় প্রত্যাঘাত করা হবে।
দুই দেশের মধ্যে কেন সংঘর্ষ
গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ চলছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে দেয় পাকিস্তান। হামলায় কমপক্ষে ৫৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও পাকিস্তান দাবি করে, পাকিস্তান নয়, বহু তালিবান সেনার মৃত্যু হয়। এরপরও দুই দেশের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা চলেছে। কেন দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ ? পাকিস্তান বারবার অভিযোগ তুলে এসেছে, পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান। তাদের মদতেই ওই জঙ্গিগোষ্ঠী বারবার হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানে। দিন কয়েক আগেই, পাকিস্তানের একচি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সেই হামলার নেপথ্যে তেহরিক-ই-তালিবানই রয়েছে বলে দাবি করেছিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না তারা। এর কড়া জবাব তারা দেবেই। তারপরই আফগানিস্তানের উপর হামলা চালায় পাকিস্তান।