
সানা: ইয়েমেন (Yemen) ও সোমালিয়ার (Somalia) উপকূলে দু’টি পণ্যবাহী জাহাজ হাইজ্যাক করল জলদস্যুরা। ওই জাহাজে মোট ২২ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তবে, প্রত্যেকেই নিরাপদে রয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই।
২০ অগস্ট ইয়েমেনের উপকূলের কাছে গালফ অফ এডেনে এরিট্রিয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এম.টি. শিবু ওয়ান হাইজ্যাক করা হয়। জাহাজটিতে মোট ২০ জন কর্মী ছিলেন,তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয় ছিলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রকের আধিকারিক জানিয়েছেন, ছয় জন সশস্ত্র জলদস্যু জাহাজটিতে উঠে তার নিয়ন্ত্রণ নেয়। বৃহস্পতিবার জাহাজটি গালফ অফ এডেন থেকে বিপদসঙ্কেত পাঠিয়েছিল। এরপর বন্দুকধারীরা জাহাজে উঠে সেটির গতিপথ বদলে সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করে।
তিন দিন আগে, অর্থাৎ ১৭ অগস্ট সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড উপকূলে হাইজ্যাক করা হয় ক্যামেরুনের পতাকাবাহী এম/বি এলইউটিইউএফ। জাহাজটিতে মোট ১০ জন কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয় জন ভারতীয়। জানা গিয়েছে,আট জন সশস্ত্র জলদস্যু দু’টি ছোট নৌকায় করে জাহাজটিতে ওঠে। তাঁদের হাতে AK-47-এর মতো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এরপর জাহাজটিকে সোমালিয়ার নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
জাহাজটিতে ছয় জন ভারতীয় ছাড়াও এক জন তুর্কি, এক জন জর্জিয়ান এবং দুই জন সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। জাহাজটিতে তুরস্কের সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য অস্ত্র, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও স্যাটেলাইট সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দু’টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ হাইজ্যাক করা হয়েছিল। একটিতে ১৬ জন এবং অন্যটিতে ছয় জন ভারতীয় ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নয়া দিল্লি। সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত নাবিকদের মধ্যে ভারতের অবদান উল্লেখযোগ্য। নৌপরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে সক্রিয় নাবিকের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি।