
মস্কো: যুদ্ধ চলছে। মুহুর্মুহু ড্রোন হামলা হচ্ছে। গোলা-বারুদের শব্দ। সেনাও আছে। কিন্তু,এই সেনার জল লাগে না, খাবার লাগে না। দিনের পর দিন খাবার ও জল ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এমনটা কি হওয়া সম্ভব? বাস্তবে কিন্তু সত্যি এমনটাই হচ্ছে। রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে যুদ্ধে ঠিক এই পন্থাই অবলম্বন করছে ইউক্রেন (Russia-Ukraine War)। এমন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে, যে তাঁদের জল-খাবারও লাগে না। কীভাবে তা সম্ভব, ব্যাপারখানা খোলসা করেই বলা যাক।
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা বিশ্ব। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে, ইরান-আমেরিকা ছাড়া বিশ্বে আরও দুই দেশ রয়েছে, যাদের যুদ্ধের বয়স প্রায় চার বছর। ২০২২ সাল থেকে যুদ্ধ চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। এই যুদ্ধের ভবিষ্যত কোন দিকে? আদৌ কি যুদ্ধ বন্ধ হবে? এই বিষয়ে কারও কাছে কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে, জানা গিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে আর সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছে না। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে (Russia-Ukraine War) মানুষের পরিবর্তে মেশিনের উপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারি থেকে বহু দূরে বসেই এখন কমান্ডাররা কম্পিউটার স্ক্রিন, লাইভস্ট্রিম এবং ড্রোনের সাহায্যে হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন। একসময় যারা যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন, এখন তাঁরাই প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ পরিচালনা করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইউক্রেনের প্রত্যেক অভিযানে বিস্ফোরক বোঝাই একাধিক রোবট রুশ ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। অথচ ইউক্রেনের কোনও সেনাকে সেখানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হচ্ছে না। আকাশে নজরদারি চালাচ্ছে রিকনেসান্স ড্রোন, আর দূরে বসে অপারেটররা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন এই রোবটগুলিকে।
যান্ত্রিক সেনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ বা ‘নিঃশব্দ মৃত্যু’। কারণ, যন্ত্রগুলি এতটাই নিঃশব্দে চলে যে রুশ সেনারা অনেক সময় সেগুলির উপস্থিতি টের পান তখনই, যখন সেগুলি মাত্র ১০ মিটার দূরে পৌঁছে যায়। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে সেনার সংখ্যা কমেছে। যুদ্ধে বহু সেনার মৃত্যুও হয়েছে। সেনা সঙ্কটের ফলে এই বিকল্প রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া।
এপ্রিল মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, প্রথমবার শুধুমাত্র রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করেই যুদ্ধ চালাচ্ছে ইউক্রেনের সেনা। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে রক্ত মাংসের সেনার পরিবর্তে যন্ত্র সেনা ব্যবহার করে ২২ হাজারেরও বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।